Crime
মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরেই ধর্মতলায় তাণ্ডবের ঘটনায় গ্রেফতার ১১
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে ধর্মতলায় সিজিপি সহ বাম ছাত্র সংগঠনগুলির আন্দোলনে শুক্রবারে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়।প্রতিবাদের নামে কর্তব্যরত সাংবাদিকদের উপর হামলা চালানো হয়। ঘটনায় একাধিক সাংবাদিক আহত হয়। পাশাপাশি নিগৃহীত করা হয় মহিলা সাংবাদিকদের। এই নিয়ে শুক্রবার এসএসকেএম হাসপাতালে আহত সাংবাদিক ও চিত্র সাংবাদিকদের দেখতে গিয়ে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার আন্দোলনে হিংসা ও সাংবাদিকদের উপর হামলার অভিযোগে ১১ জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে একজন মহম্মদ আফরোজ। উল্লেখ, শনিবার বিধানসভায় বিবৃতি দেওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রী যে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করেছিলেন, তাঁর মধ্যেই একজন হলেন আফরোজ। আবার আফরোজের সোশ্যাল মিডিয়ায় তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে তাঁর ভিডিয়ো রয়েছে। ফলে তাঁর তৃণমূল যোগ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। যদিও কলকাতা পুলিশকে ই-মেইল করে সিজিপি-র তারফে জানানো হয়, ধৃতদের কেউই তাদের সঙ্গে যুক্ত নয়।
ধর্মতলায় আহত সাংবাদিকদের দেখতে হাসপাতালে মুখ্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ধর্মতলায় নিট-কাণ্ডের প্রতিবাদ ঘিরে অশান্তির সময় খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আক্রান্ত হওয়া সাংবাদিকদের দেখতে শুক্রবার রাত ৯টা নাগাত এসএসকেএম পৌঁছলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আহত সাংবাদিকদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন তিনি। চিকিৎসকদের সঙ্গেও কথা বলে আহতদের চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেন মুখ্যমন্ত্রী। সাংবাদিকদের এই অবস্থার জন্য যারা দায়ী, তাঁদের উদ্দেশে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। হাসপাতালে দাঁড়িয়েই সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, কটা দিন অপেক্ষা করুন, ওদের কী করতে হয়, আমি জানি। এই শুক্রবারিদের দেখিয়ে দেব। সংবাদমাধ্যম গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। কর্তব্যরত সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনাকে তিনি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে উল্লেখ করেন। এই ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। প্রসঙ্গত, ধর্মতলায় নিট-কাণ্ডের প্রতিবাদ ঘিরে বিক্ষোভ চলাকালীন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের একাংশের হামলায় বেশ কয়েকজন সাংবাদিক আহত হন এবং তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং দোষীদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে।
কয়েক কোটি টাকার সোনা নিয়ে রাস্তায় ঘোরাঘুরি! খাস কলকাতায় গ্রেফতার ভিন রাজ্যের ২ যুবক
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: খাস কলকাতার রাস্তায় কোটি কোটি টাকার সোনা নিয়ে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি। গ্রেফতার ভিন রাজ্যের দুই যুবকক।ধৃতরা হলেন, ভগিরথ জানা, উড়িস্যার বাসিন্দা এবং অজিত মহিতা মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা। ধৃতদের কাছ থেকে ৪টি সোনার বিস্কুট উদ্ধার হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৬ কোটি টাকা। এছাড়াও ধৃতদের কাছ থেকে পুরোনো বেশ কিছু টাকাও উদ্ধার হয়েছে। শুক্রবার ধৃতদের লেকটোনের বি ব্লকের লেকের সামনে সন্দেহজনক ভাবে ঘোরাঘুরি করতে দেখে লেকটাউন থানার কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা। তাঁদের তল্লাশি চালাতেই উদ্ধার হয় কোটি কোটি টাকার সোনার বিস্কুট। উদ্ধার হওয়া সোনার কোনও বৈধ নথি বা মালিকানার প্রমাণ দেখাতে না পারায় তাঁদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিয়মিত টহলের সময় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে দুই যুবককে আটক করা হয়। তল্লাশিতে তাঁদের ব্যাগ থেকে বিপুল পরিমাণ সোনার বিস্কুট উদ্ধার হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধার হওয়া সোনার উৎস সম্পর্কে সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি ধৃতরা। এরপরই তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে লেকটাউন থানার পুলিশ। ঘটনা প্রসঙ্গে এদিন সাংবাদিক বৈঠকে বিধাননগরের নগরপাল রাঠোর অমিত কুমার ভারত জানান, তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, ঘটনার সঙ্গে একটি বৃহত্তর চোরাচালান বা হাওলা চক্র জড়িত থাকতে পারে। সেই সম্ভাবনা মাথায় রেখে ধৃতদের মোবাইল ফোন, যোগাযোগের নথি এবং যাতায়াতের তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে বরুণ খুন মামলায় বড় পদক্ষেপ, সরকারি আইনজীবী বদল, নিয়োগ বিশেষ সরকারি আইনজীবী
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে বিচারপ্রক্রিয়ার অপেক্ষায় থাকা বরুণ সেনগুপ্ত হত্যা মামলায় গুরুত্বপূর্ণ মোড়। নিহত শিক্ষক বরুণ সেনগুপ্তের পরিবারের পক্ষ থেকে সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচারের আবেদন জানানোর পর মামলায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি আইনজীবীকে সরিয়ে বিশেষ সরকারি আইনজীবী (স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর) নিয়োগ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে মামলার বিচারপ্রক্রিয়া আরও গতি পাবে বলেই প্রশাসনিক মহল ও পরিবারের আশা। পরিবারের অভিযোগ ছিল, দীর্ঘদিন ধরে মামলার বিচারপ্রক্রিয়া প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছিল না। সেই কারণে তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করে আবেদন জানান। এরপরই রাজ্য সরকার মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে বিশেষ সরকারি আইনজীবী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়। নিহতের পরিবারের বক্তব্য, নতুন বিশেষ সরকারি আইনজীবী নিয়োগ বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর করবে। তবে তাঁরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, শুধু আইনজীবী বদল নয়, দ্রুত বিচার শেষ করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করাই তাঁদের মূল দাবি। শুক্রবার বরুণ খুনের মামলার ৩৭ নম্বর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হল। সঙ্গে পরিবর্তন করা হয়েছে সরকার পক্ষের আইনজীবীকে। দেওয়া হয়েছে বিশেষ সরকারি আইনজীবী। এদিন সাক্ষ্য গ্রহণ পরের নতুন বিশেষ সরকারি আইনজীবী জানান, আজ ৩৭ নাম্বার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হল। পরবর্তী তারিখ দেওয়া দেওয়াছে আগামী ৩১ অগষ্ট। ওই দিন বরুণ বিশ্বাসের বাবার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, 'এই মামলা দীর্ঘদিন ধরে চলছে। আমরা আশাবাদী দ্রুত মামলার নিষ্পত্তি হবে।' উল্লেখ্য, ২০১২ সালে উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙ্গা রেলস্টেশন এলাকায় সমাজবিরোধী কার্যকলাপ ও নারী নির্যাতনের প্রতিবাদ করায় কলকাতার মিত্র ইনস্টিটিউশনের শিক্ষক বরুণ সেনগুপ্তকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিচার সম্পূর্ণ হয়নি। বিশেষ সরকারি আইনজীবী নিয়োগের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে মামলার নিষ্পত্তি দ্রুত হবে বলেই আশা করছেন নিহতের পরিবার।
পর্যটক হেল্পলাইনে অভিযোগের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার প্রতারণার টাকা
নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: পর্যটক হেল্পলাইন পরিষেবা চালুর মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যেই দু'টি পৃথক অভিযোগে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে প্রতারিত পর্যটকদের টাকা ফেরত দিতে সক্ষম হয়েছে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশ। শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনার সৈয়দ ওয়াকার রাজার নেতৃত্বে এবং পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষের উদ্যোগে চালু হওয়া এই বিশেষ হেল্পলাইনের লক্ষ্য উত্তরবঙ্গে আগত দেশ-বিদেশের পর্যটকদের যে কোনও সমস্যায় দ্রুত সহায়তা প্রদান করা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিহারের বাসিন্দা অঙ্কিত কুমার গ্যাংটক ভ্রমণের উদ্দেশ্যে শিলিগুড়ি জংশনে এসে সোশ্যাল মিডিয়ায় পাওয়া একটি ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস সংস্থার মাধ্যমে ৩৩ হাজার টাকার একটি ট্যুর প্যাকেজ বুক করেন। ওই প্যাকেজে হোটেল, খাবার এবং দর্শনীয় স্থান ঘোরানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। অনলাইনে টাকা নেওয়ার পর তাঁকে গ্যাংটকগামী গাড়িতে তুলে দেওয়া হয়। অভিযোগ, গ্যাংটকে পৌঁছে তিনি জানতে পারেন, তাঁর নামে কোনও হোটেল বুকিং বা পর্যটন সংক্রান্ত কোনও ব্যবস্থাই করা হয়নি। প্রতারণার শিকার বুঝতে পেরে তিনি সঙ্গে সঙ্গেই শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের ২৪ ঘণ্টার ট্যুরিস্ট হেল্পলাইনে অভিযোগ জানান। অভিযোগ পাওয়ার পর ট্রাফিক এসিপি সুবীর কুমার দত্ত বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে জংশন ট্রাফিক গার্ডের আইসি রিদম সাহাকে দ্রুত তদন্ত ও পর্যটককে সর্বত্তোভাবে সহায়তার নির্দেশ দেন। পুলিশ তদন্তে নেমে সংশ্লিষ্ট ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস অফিসে পৌঁছলেও মূল অভিযুক্তকে পাওয়া যায়নি। তবে সংস্থার সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রতারিত পর্যটকের পুরো ৩৩ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করে পুলিশ। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ভুয়ো ট্যুর প্যাকেজ বিক্রি করে প্রতারণা চালানো মূল অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। মঙ্গলবার এসিপি সুবীর কুমার দত্ত ফোনে অঙ্কিত কুমারের সঙ্গে কথা বলে তাঁর টাকা ফেরত পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। টাকা ফিরে পেয়ে অঙ্কিত কুমার শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেন এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভ্রমণের সময় কোনও পর্যটক প্রতারণা, অবৈধ অর্থ আদায়, হয়রানি বা অন্য কোনও সমস্যার সম্মুখীন হলে নির্দ্বিধায় ট্যুরিস্ট হেল্পলাইনে যোগাযোগ করতে পারেন। অভিযোগ পেলেই দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা হবে।
আইসিডিএস কেন্দ্রে খাদ্যসামগ্রী পাচারের অভিযোগ, ধৃত এক
নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপে আইসিডিএস কেন্দ্রের শিশুদের জন্য বরাদ্দ চাল, ডাল ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী পাচারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। অভিযোগ, পাচারের সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের হাতে হাতেনাতে ধরা পড়েন এক অঙ্গনারী কর্মী। ঘটনাটি ঘটেছে কাকদ্বীপ ব্লকের অক্ষয়নগর কালিনগর উত্তর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩০১ নম্বর ভূবননগর আইসিডিএস কেন্দ্রে।অভিযুক্ত অঙ্গনারী কর্মীর নাম শ্রাবণী দাস। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই কেন্দ্রের শিশু ও উপভোক্তাদের জন্য বরাদ্দ খাদ্যসামগ্রী আত্মসাৎ করে বিক্রি করা হচ্ছিল। রবিবার রাতে নিজের বাড়িতে আইসিডিএসের চাল, ডাল সহ বিভিন্ন সামগ্রী মজুত রেখে সেগুলি বিক্রির চেষ্টা করার সময় গ্রামবাসীরা তাঁকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। গ্রামবাসীদের দাবি, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগেও একাধিকবার একইভাবে শিশুদের জন্য বরাদ্দ খাদ্যসামগ্রী অন্যত্র বিক্রি করা হয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান বাসিন্দারা। ঘটনার খবর পেয়ে কাকদ্বীপ হারুউড পয়েন্ট কোস্টাল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ আইসিডিএসের চাল, ডাল সহ অন্যান্য সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিযুক্ত কর্মীকে থানায় নিয়ে যায়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
তোলাবাজি মামলায় দেবরাজের ৭দিনের পুলিশি হেফাজত
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসাত: দেবরাজ চক্রবর্তী বিরুদ্ধে ওঠা তোলাবাজির মামলায় ৭ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিল বারাসাত আদালত। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ ১০ দিনের হেফাজতের আবেদন জানালেও আদালত ৭ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয়। তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, যে মামলায় এদিন দেবরাজ চক্রবর্তীকে আদালতে তোলা হয়, সেটি একটি নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে দায়ের হওয়া মামলা। অভিযোগ, একটি নির্মাণকাজে বাধা দিয়ে ভয় দেখিয়ে অভিযোগকারীর কাছ থেকে ৩০ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়েছিল। কিছু টাকা দেওয়াও হয়। ওই অভিযোগের ভিত্তিতেই দেবরাজ চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সরকারি আইনজীবী বিভাস চ্যাটার্জি জানান, এদিন আদালতে শুধুমাত্র ৩০ লক্ষ টাকা দাবির অভিযোগ সংক্রান্ত মামলাটিই পেশ করা হয়েছে। তবে দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আরও একাধিক অভিযোগ রয়েছে, যেখানে অর্থ দাবির পরিমাণ আরও বেশি বলে তদন্তে উঠে এসেছে। ইতিমধ্যেই এই মামলার অভিযোগকারীর গোপন জবানবন্দি আদালতে রেকর্ড করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, বর্তমান মামলার তদন্ত শেষ হওয়ার পর দেবরাজ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আরও একাধিক মামলায় আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার বিষয় রয়েছে। সরকারি পক্ষের বক্তব্য, তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই নতুন তথ্য সামনে আসছে। এই ঘটনাগুলি একটি সংগঠিত অপরাধচক্রের অংশ হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন সরকারি আইনজীবী। তাঁর দাবি, তদন্তে আরও কয়েকজনের নাম উঠে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি পক্ষ আরও জানায়, পরবর্তী যে মামলাটি আদালতে আনা হবে, সেখানে অভিযোগের অর্থের পরিমাণ ৩০ লক্ষ টাকারও বেশি। তবে তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে সেই মামলার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে রাজি হননি তদন্তকারীরা। দেবরাজ চক্রবর্তীকে ঘিরে চলা তদন্তে আগামী কয়েক দিনে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছে তদন্তকারী মহল। ফলে এই মামলাকে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জল্পনা আরও বাড়বে।
গ্রেফতার তৃণমূল কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তী
বিপুল আয় বহির্ভূত সম্পত্তি ও প্রোমোটারদের হুমকি।দিয়ে তোলাবাজির অভিযোগে পুরুলিয়া থেকে গ্রেফতার অভিষেক ঘনিষ্ঠ তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর তথা রাজারহাট গোপালপুরের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সীর স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তী।
তোলাবাজি থেকে দুর্নীতি! আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে পঞ্চায়েতে বিক্ষোভ
কাকদ্বীপ: পাথরপ্রতিমা ব্লকের অচিন্ত্যনগর গ্রাম পঞ্চায়েতকে ঘিরে রবিবার ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন ধরে পঞ্চায়েত এলাকায় বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি, তোলাবাজি এবং সরকারি প্রকল্পে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা পঞ্চায়েত কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভে সামিল হন। সকাল থেকেই পঞ্চায়েত অফিস চত্বরে মানুষের ভিড় জমতে শুরু করে এবং বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পঞ্চায়েত এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়। পাশাপাশি, সরকারি ত্রাণ ও অন্যান্য সরকারি সামগ্রী ব্যক্তিগত বাড়িতে মজুত করে রাখার অভিযোগও সামনে আসে। এই সমস্ত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে আন্দোলনকারীরা সরব হন। বিক্ষোভকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ জানানো হলেও সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই তারা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। আন্দোলনকারীদের একাংশের বক্তব্য, সাধারণ মানুষের প্রাপ্য সরকারি সুবিধা থেকে অনেকেই বঞ্চিত হচ্ছেন, অথচ দুর্নীতির মাধ্যমে কিছু ব্যক্তি লাভবান হচ্ছেন। এই পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে পঞ্চায়েত প্রশাসনে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়। ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। পঞ্চায়েত কার্যালয় এবং আশপাশের এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হলেও পুলিশ প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অভিযোগগুলির দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে অচিন্ত্যনগর সহ গোটা পাথরপ্রতিমা এলাকায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এখন প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।
অভিষেকের উপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতার ৫ তৃণমূল বিধায়ক ঘনিষ্ট
সোনারপুর: তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতার ৫। রবিবার ধৃত ৫জনকে বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার ২৬ দিন পর শনিবার দলীয় কর্মসূচিতে সোনারপুরে গিয়ে আক্রান্ত হন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সাংসদকে মারধর ও হেনস্থার ঘটনায় শনিবার রাতেই অভিযুক্ত সন্দেহে পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করে সোনারপুর থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ এবং ঘটনাস্থলের ভিডিয়ো খতিয়ে দেখে রাতভর তল্লাশি চালিয়ে কয়েকজনকে আটক ও পরে গ্রেপ্তার করা হয়।অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে হামলা, মারধর, বেআইনি ভাবে জমায়েত, পথ আটকানো, গালিগালাজের অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতেরা হলেন আকাশ গায়েন, কাজল দাস, দেবাশিস, নির্মাল্য সেনগুপ্ত এবং তপন মাইতি। ধৃত প্রত্যেকেই রাজপুর সোনারপুর পুরসভার ৯ ওয়ার্ডের বাসিন্দা।পাশাপাশি জানা গিয়েছে ধৃত ৫ জনই প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক লাভলী মৈত্রের ঘনিষ্ঠ।ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে রেখে তদন্তের কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় পুলিশ। ঘটনার পরেই রাজ্য বিজেপির তরফে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বিবৃতি দিয়ে জানান, ঘটনায় দূর দূর পর্যন্ত বিজেপি কোনো যোগ নেই। ভিডিও ফুটেজ দেখে ৫ জন গ্রেপ্তারে পরে কার্যত সেই তথ্যই প্রমাণিত হল। তৃণমূলের অর্ন্তদন্ধের ফলেও হামলা তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরে।
সরকারি ত্রাণ মজুদ রাখার অভিযোগে গ্রেফতার তৃণমূল প্রধান সহ ৫
জয়নগর: সরকারি ত্রাণ সামগ্রী বেআইনি ভাবে মজুদ রাখার অভিযোগে গ্রেফতার ৫ জন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা। ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকাল কাটিয়ে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠন হয়েছে রাজ্যে। আর শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে বসার পর থেকে নানান দুর্নীতিতে একের পর এক তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতা, বিধায়ক, প্রধান, চেয়ারম্যানরা গ্রেফতার হচ্ছেন। জয়নগর থানার বারুইপুর পূর্ব বিধানসভার ঢোষা চন্দনেশ্বর পঞ্চায়েতের তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য তথা অঞ্চল যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সুব্রত মণ্ডলের গ্রেফতারের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হয় জয়নগর থানার বারুইপুর পূর্ব বিধানসভার নারায়নীতলা পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান তথা বর্তমান সদস্য অশোক সাহা, বর্তমান সদস্য রথীন সাহা, বর্তমান সদস্য চন্দ্রিমা ঘোষ, বর্তমান সদস্য শ্রীমা ঘোষ ও যুব তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ভাস্কর ঘোষ। বিজেপির অভিযোগের ভিত্তিতে জয়নগর থানার পুলিশ এদিন নারায়নী তলা গ্রাম পঞ্চায়েতের একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে প্রচুর মজুদ করা সরকারি ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধার করে। জয়নগর থানার আইসি সুব্রত মালাকার সহ জয়নগর থানার পুলিশের বিশাল টিম ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে এই অভিযান চলে। অভিযানে একের পর এক তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের গোডাউন থেকে উদ্ধার হয় ধান ঝারাই মেশিন, স্প্রে মেশিন, আমফানের সময় দেওয়া ত্রিপল, সরকারি কিট সহ একাধিক সামগ্রী। এরপরেই ৫ জন তৃণমূল সদস্যকে গ্রেফতার করে জয়নগর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। ঘটনায় বারুইপুর পূর্ব বিধানসভার বিজেপির ৪নং মণ্ডল সভাপতি অতনু ঘোষ বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরে সরকারের দেওয়া গরীব অসহায় মানুষদের ত্রাণ, কৃষকদের চাষের সরঞ্জাম না দিয়ে একাধিক গোডাউনে মজুত রেখেছিল অশোক সাহা সহ বাকি তৃণমূল নেতা নেত্রীরা। আমরা জানতে পেরে জয়নগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। আর তার পরেই জয়নগর থানার পুলিশ এসে এদিন একাধিক জায়গা থেকে সরকারী ত্রাণের বহু জিনিস উদ্ধার করে।আমরা চাই এই সব চোর নেতাদের সঠিক সাজা হোক।' যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। ধৃতদেরকে শনিবার জয়নগর থানা থেকে বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করে জয়নগর থানার পুলিশ। এদিন বারুইপুর মহকুমা আদালতের মহামান্য বিচারক ধৃতদেরকে পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।
মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেফতার তৃণমূল কাউন্সিলর
সোনারপুর: এবার ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেফতার তৃণমূল কাউন্সিলার। গ্রেফতার রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার বরুণ সরকার। শনিবার ভোরে তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যদিও ধৃত কাউন্সিলরের দাবি, ওই ভেড়িতে তিনি মাছ চাষ করেছিলেন। বিজেপি জিতে যাওয়ায় তাঁর মাছ চাষের ক্ষতি করতে পারে, এই শঙ্কায় তিনি মাছ তুলে নিচ্ছিলেন।ধৃতকে শনিবার বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার তৃণমূল শ্রমিক নেতা দীপঙ্কর
উলুবেড়িয়া: তোলাবাজি, দাদাগিরি সহ একাধিক অভিযোগে বীরভূমের তারাপীঠ থেকে দীপঙ্কর ঘোষ নামে এক তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করল উলুবেড়িয়া থানার পুলিশ। ধৃত তৃণমূল নেতা তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের হাওড়া গ্রামীন জেলার নেতা। ধৃতকে শনিবার উলুবেড়িয়া আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে ৫ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল শ্রমিক নেতা দীপঙ্কর ঘোষ এলাকায় দাদাগিরি পাশাপাশি সাধারন মানুষকে হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। এমনকি ১৬নং জাতীয় সড়কের পাশে বীরশিবপুর শিল্প তালুকে থাকা একাধিক কোম্পানি থেকে ও তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ উঠছিল। আর এরপরেই শুক্রবার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। জানা গেছে, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর দীপু বীরভূমে গা ঢাকা দিয়েছিল। শুক্রবার সেখান থেকেই পুলিশ দীপঙ্কর ঘোষকে গ্রেফতার করে।
দাঁতনে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণসামগ্রী উদ্ধার, চাঞ্চল্য
পশ্চিম মেদিনীপুর: দাঁতনের ধনেশ্বরপুরে একটি গুদাম ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই বিডিও অফিস সংলগ্ন একটি গুদামে মালপত্র আনা-নেওয়া চলত। তবে সেখানে কী রাখা হয়, সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা ছিল না অধিকাংশ মানুষের। অবশেষে পুলিশি তল্লাশির পর সেই গুদাম থেকেই উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রিপল, কম্বল ও বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় শুরু হয় জোর আলোচনা। স্থানীয়দের প্রশ্ন, সাধারণ মানুষের প্রয়োজনে ব্যবহৃত হওয়ার কথা যে সামগ্রীগুলির, সেগুলি কীভাবে একটি ব্যক্তিগত গুদামে এল? কার নির্দেশে সেখানে রাখা হয়েছিল? কতদিন ধরে এই মজুত চলছিল? এমন একাধিক প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে শুরু করেছে। অভিযোগের তির উঠেছে এলাকার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা ও ঠিকাদারের দিকে। বিজেপির দাবি, প্রশাসনের নজর এড়িয়ে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সামগ্রী গোপনে মজুত রাখা হয়েছিল। অভিযোগ, দুর্যোগের সময় সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছানোর বদলে ত্রাণসামগ্রী অন্যত্র সরিয়ে রাখার প্রবণতা নতুন নয়। এই ঘটনার সঙ্গে আরো কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করার দাবি তুলেছে বিজেপি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর উৎস ও বৈধতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে নথিপত্র যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। সামগ্রীগুলি সরকারি প্রকল্পের আওতায় এসেছিল কিনা, অথবা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সেখানে রাখা হয়েছিল কিনা, তা তদন্তেই স্পষ্ট হবে। যদিও অভিযুক্ত তৃণমূল কংগ্রেস নেতার তরফে এখনো পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। প্রশাসনও আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ না খুললেও, তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রয়েছে জেলার রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের।
তরুণীকে প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল! গ্রেফতার যুবক
বারুইপুর : বারুইপুরের এক তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করার অভিযোগে গ্রেফতার যুবক।অভিযোগ, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীর্ঘদিন সম্পর্ক বজায় রাখার পর সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি অভিযুক্ত। এমনকি তরুণী দু'বার অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে জোর করে গর্ভপাত করানো হয় বলেও অভিযোগ। নির্যাতিতা তরুণীর অভিযোগ, বছর দু'য়েক আগে এক বন্ধুর মাধ্যমে পাইকপাড়ার বাসিন্দা যুবকের সঙ্গে পরিচয় হয়। অভিযুক্ত একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত ছিল। পরিচয়ের পর ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। দুই পরিবারের মধ্যেও যাতায়াত ছিল এবং তারা একাধিকবার বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতেও যান। তরুণীর দাবি, বারবার বিয়ের কথা তুললে অভিযুক্ত তাকে ব্ল্যাকমেল করতে শুরু করে। গোপন ছবি সোশ্যাল মিডিয়া ও অন্যত্র ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ।আর শেষ পর্যন্ত যুবকের চাপ নিতে না পেরে বারুইপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তরুণী। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।বৃহস্পতিবার তাকে বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে বিচারক অভিযুক্তকে আগামী ১লা জুন পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।
বিজেপি কর্মীর পানের বরজ নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ
কাকদ্বীপ: দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলার গঙ্গাসাগরে ফের রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল এলাকা। সাগর থানার অন্তর্গত মুড়িগঙ্গা-২নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের মন্দিরতলা গ্রামের ৩১ নম্বর বুথ এলাকায় এক বিজেপি কর্মীর পানের বরজ নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের তীর উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেস আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিজেপি কার্যকর্তা গনেশ দাস দীর্ঘদিন ধরে পানের চাষের সঙ্গে যুক্ত। অভিযোগ, বুধবার গভীর রাতে দুষ্কৃতীরা তাঁর পানের বরজে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে একাধিক পানের গাছ কেটে নষ্ট করে দেয়। বৃহস্পতিবার সকালে বরজে গিয়ে ক্ষতির চিত্র দেখে হতবাক হয়ে যান তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। ঘটনায় চাষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি গনেশ দাসের। গনেশ দাসের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরেই এই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, 'আমি বিজেপির সমর্থক হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে আমার চাষের ক্ষতি করা হয়েছে। রাতের অন্ধকারে দুষ্কৃতীরা বরজে ঢুকে পানের গাছ কেটে দিয়েছে। এতে আমার প্রচুর আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।' অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বও ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। তাঁদের দাবি, বিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণেই এলাকায় বিজেপি কর্মীদের উপর বারবার হামলা ও ভয় দেখানোর চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, বিজেপি ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ করছে। ঘটনার সঙ্গে তৃণমূলের কোনো যোগ নেই বলেও দাবি করা হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
জমির নথি জাল করে বিক্রির অভিযোগ, গ্রেফতার এক
নিজেস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: জমির নথি জাল করে বিক্রির অভিযোগে গ্রেফতার জমি মাফিয়া মহম্মদ জাহিদের স্ত্রী জাসমিন খাতুন। মাটিগাড়া থানার পুলিশের হাতে গ্রেফতার মহিলা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১২ সালে এক মহিলা মাটিগাড়া পাঁচকেলগুরি এলাকায় ৩ কাঠা জমি কিনে ২০২১ সালে বিক্রি করেন। তিনি যাকে বিক্রি করেছেন তিনি জমির পূর্ব মালকিনকে অভিযোগ করে জানান অপর একজন একই জমির মালিকানা দাবি করছে। পরবর্তীতে পূর্ব মালকিন খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন অভিযোগকারী মহিলার থেকে জাসমিন খাতুনের নামে ভুয়ো ভাবে ২০২৪ সালে জমি কেনার জাল নথি রয়েছে। অভিযোগকারীর স্বাক্ষর জাল করে ও অন্য কারোর ছবি ব্যবহার করে সেই জমি কিনেছেন অভিযুক্ত জাসমিন খাতুন। সেখানে সাক্ষী হিসেবে নাম রয়েছে তার স্বামী মহম্মদ জাহিদের। ঘটনার পর মাটিগাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলে বুধবার জাসমিন খাতুনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশ সুত্রে আরো জানা গিয়েছে, একাধিক জমি মামলা রয়েছে অভিযুক্তর স্বামী মহম্মদ জাহিদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার ধৃতকে শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে পাঠানো হয়। ইতিমধ্যে পুরো ঘটনার তদন্তে নেমেছে মাটিগাড়া থানার পুলিশ।
ব্ল্যাকমেলের জেরে যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ, কাঠগড়ায় দম্পতি
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারুইপুর: ব্ল্যাকমেলের জেরে এক যুবকের মৃত্যু হল বারুইপুরে।মৃতের নাম অরুণাভ হালদার।ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে বারুইপুরে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে মঙ্গলবার গভীর রাতে বারুইপুর থানার সামনে বিক্ষোভে সামিল হলেন বারুইপুর ফুলতলার নেতাজি নগর 'এ'ব্লকের বাসিন্দারা। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, নেতাজি নগর 'এ'ব্লকের বাসিন্দা রূপা দাসের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল অরুণাভর। যদিও রূপা বিবাহিত। মৃতের পরিবারের সদস্যদের দাবি, সম্পর্কে থাকাকালীন অরুণাভের কাছ থেকে নানাভাবে টাকা পয়সা সহ নানা সুযোগ সুবিধা নিতো রূপা। সম্প্রতি ওই যুবক সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলে তাঁর উপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ। এছাড়াও করা হয় ব্ল্যাকমেল। পরিবারের আরো দাবি, সেই চাপ সহ্য করতে না পেরেই চলতি মাসের ২২ তারিখ আত্মহত্যার চেষ্টা করেন অরুণাভ। এরপরেজ পরিবারের সদস্যরাই তাঁকে উদ্ধার করে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করেন।গত ২৪শে মে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অরুনাভর মৃত্যু হয়। এর পরেই বারুইপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে মৃতের পরিবার। কিন্তু মূল অভিযুক্ত রূপা দাস ও তাঁর স্বামীর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার বাসিন্দারা। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
