Crime
তোলাবাজি থেকে দুর্নীতি! আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে পঞ্চায়েতে বিক্ষোভ
কাকদ্বীপ: পাথরপ্রতিমা ব্লকের অচিন্ত্যনগর গ্রাম পঞ্চায়েতকে ঘিরে রবিবার ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন ধরে পঞ্চায়েত এলাকায় বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি, তোলাবাজি এবং সরকারি প্রকল্পে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে শতাধিক স্থানীয় বাসিন্দা পঞ্চায়েত কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভে সামিল হন। সকাল থেকেই পঞ্চায়েত অফিস চত্বরে মানুষের ভিড় জমতে শুরু করে এবং বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পঞ্চায়েত এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়। পাশাপাশি, সরকারি ত্রাণ ও অন্যান্য সরকারি সামগ্রী ব্যক্তিগত বাড়িতে মজুত করে রাখার অভিযোগও সামনে আসে। এই সমস্ত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে আন্দোলনকারীরা সরব হন। বিক্ষোভকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ জানানো হলেও সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি। ফলে বাধ্য হয়েই তারা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। আন্দোলনকারীদের একাংশের বক্তব্য, সাধারণ মানুষের প্রাপ্য সরকারি সুবিধা থেকে অনেকেই বঞ্চিত হচ্ছেন, অথচ দুর্নীতির মাধ্যমে কিছু ব্যক্তি লাভবান হচ্ছেন। এই পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে পঞ্চায়েত প্রশাসনে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়। ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। পঞ্চায়েত কার্যালয় এবং আশপাশের এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হলেও পুলিশ প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অভিযোগগুলির দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে অচিন্ত্যনগর সহ গোটা পাথরপ্রতিমা এলাকায় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এখন প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।
অভিষেকের উপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতার ৫ তৃণমূল বিধায়ক ঘনিষ্ট
সোনারপুর: তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার ঘটনায় গ্রেফতার ৫। রবিবার ধৃত ৫জনকে বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার ২৬ দিন পর শনিবার দলীয় কর্মসূচিতে সোনারপুরে গিয়ে আক্রান্ত হন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সাংসদকে মারধর ও হেনস্থার ঘটনায় শনিবার রাতেই অভিযুক্ত সন্দেহে পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করে সোনারপুর থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ এবং ঘটনাস্থলের ভিডিয়ো খতিয়ে দেখে রাতভর তল্লাশি চালিয়ে কয়েকজনকে আটক ও পরে গ্রেপ্তার করা হয়।অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে হামলা, মারধর, বেআইনি ভাবে জমায়েত, পথ আটকানো, গালিগালাজের অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতেরা হলেন আকাশ গায়েন, কাজল দাস, দেবাশিস, নির্মাল্য সেনগুপ্ত এবং তপন মাইতি। ধৃত প্রত্যেকেই রাজপুর সোনারপুর পুরসভার ৯ ওয়ার্ডের বাসিন্দা।পাশাপাশি জানা গিয়েছে ধৃত ৫ জনই প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক লাভলী মৈত্রের ঘনিষ্ঠ।ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে রেখে তদন্তের কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় পুলিশ। ঘটনার পরেই রাজ্য বিজেপির তরফে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বিবৃতি দিয়ে জানান, ঘটনায় দূর দূর পর্যন্ত বিজেপি কোনো যোগ নেই। ভিডিও ফুটেজ দেখে ৫ জন গ্রেপ্তারে পরে কার্যত সেই তথ্যই প্রমাণিত হল। তৃণমূলের অর্ন্তদন্ধের ফলেও হামলা তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপরে।
সরকারি ত্রাণ মজুদ রাখার অভিযোগে গ্রেফতার তৃণমূল প্রধান সহ ৫
জয়নগর: সরকারি ত্রাণ সামগ্রী বেআইনি ভাবে মজুদ রাখার অভিযোগে গ্রেফতার ৫ জন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা। ১৫ বছরের তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকাল কাটিয়ে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠন হয়েছে রাজ্যে। আর শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে বসার পর থেকে নানান দুর্নীতিতে একের পর এক তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট নেতা, বিধায়ক, প্রধান, চেয়ারম্যানরা গ্রেফতার হচ্ছেন। জয়নগর থানার বারুইপুর পূর্ব বিধানসভার ঢোষা চন্দনেশ্বর পঞ্চায়েতের তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য তথা অঞ্চল যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সুব্রত মণ্ডলের গ্রেফতারের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হয় জয়নগর থানার বারুইপুর পূর্ব বিধানসভার নারায়নীতলা পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান তথা বর্তমান সদস্য অশোক সাহা, বর্তমান সদস্য রথীন সাহা, বর্তমান সদস্য চন্দ্রিমা ঘোষ, বর্তমান সদস্য শ্রীমা ঘোষ ও যুব তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ভাস্কর ঘোষ। বিজেপির অভিযোগের ভিত্তিতে জয়নগর থানার পুলিশ এদিন নারায়নী তলা গ্রাম পঞ্চায়েতের একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে প্রচুর মজুদ করা সরকারি ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধার করে। জয়নগর থানার আইসি সুব্রত মালাকার সহ জয়নগর থানার পুলিশের বিশাল টিম ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে এই অভিযান চলে। অভিযানে একের পর এক তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের গোডাউন থেকে উদ্ধার হয় ধান ঝারাই মেশিন, স্প্রে মেশিন, আমফানের সময় দেওয়া ত্রিপল, সরকারি কিট সহ একাধিক সামগ্রী। এরপরেই ৫ জন তৃণমূল সদস্যকে গ্রেফতার করে জয়নগর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। ঘটনায় বারুইপুর পূর্ব বিধানসভার বিজেপির ৪নং মণ্ডল সভাপতি অতনু ঘোষ বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরে সরকারের দেওয়া গরীব অসহায় মানুষদের ত্রাণ, কৃষকদের চাষের সরঞ্জাম না দিয়ে একাধিক গোডাউনে মজুত রেখেছিল অশোক সাহা সহ বাকি তৃণমূল নেতা নেত্রীরা। আমরা জানতে পেরে জয়নগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। আর তার পরেই জয়নগর থানার পুলিশ এসে এদিন একাধিক জায়গা থেকে সরকারী ত্রাণের বহু জিনিস উদ্ধার করে।আমরা চাই এই সব চোর নেতাদের সঠিক সাজা হোক।' যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। ধৃতদেরকে শনিবার জয়নগর থানা থেকে বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করে জয়নগর থানার পুলিশ। এদিন বারুইপুর মহকুমা আদালতের মহামান্য বিচারক ধৃতদেরকে পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।
মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেফতার তৃণমূল কাউন্সিলর
সোনারপুর: এবার ভেড়ি থেকে মাছ চুরির অভিযোগে গ্রেফতার তৃণমূল কাউন্সিলার। গ্রেফতার রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার বরুণ সরকার। শনিবার ভোরে তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যদিও ধৃত কাউন্সিলরের দাবি, ওই ভেড়িতে তিনি মাছ চাষ করেছিলেন। বিজেপি জিতে যাওয়ায় তাঁর মাছ চাষের ক্ষতি করতে পারে, এই শঙ্কায় তিনি মাছ তুলে নিচ্ছিলেন।ধৃতকে শনিবার বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার তৃণমূল শ্রমিক নেতা দীপঙ্কর
উলুবেড়িয়া: তোলাবাজি, দাদাগিরি সহ একাধিক অভিযোগে বীরভূমের তারাপীঠ থেকে দীপঙ্কর ঘোষ নামে এক তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করল উলুবেড়িয়া থানার পুলিশ। ধৃত তৃণমূল নেতা তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের হাওড়া গ্রামীন জেলার নেতা। ধৃতকে শনিবার উলুবেড়িয়া আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁকে ৫ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল শ্রমিক নেতা দীপঙ্কর ঘোষ এলাকায় দাদাগিরি পাশাপাশি সাধারন মানুষকে হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। এমনকি ১৬নং জাতীয় সড়কের পাশে বীরশিবপুর শিল্প তালুকে থাকা একাধিক কোম্পানি থেকে ও তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ উঠছিল। আর এরপরেই শুক্রবার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে। জানা গেছে, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর দীপু বীরভূমে গা ঢাকা দিয়েছিল। শুক্রবার সেখান থেকেই পুলিশ দীপঙ্কর ঘোষকে গ্রেফতার করে।
দাঁতনে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণসামগ্রী উদ্ধার, চাঞ্চল্য
পশ্চিম মেদিনীপুর: দাঁতনের ধনেশ্বরপুরে একটি গুদাম ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই বিডিও অফিস সংলগ্ন একটি গুদামে মালপত্র আনা-নেওয়া চলত। তবে সেখানে কী রাখা হয়, সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা ছিল না অধিকাংশ মানুষের। অবশেষে পুলিশি তল্লাশির পর সেই গুদাম থেকেই উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রিপল, কম্বল ও বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় শুরু হয় জোর আলোচনা। স্থানীয়দের প্রশ্ন, সাধারণ মানুষের প্রয়োজনে ব্যবহৃত হওয়ার কথা যে সামগ্রীগুলির, সেগুলি কীভাবে একটি ব্যক্তিগত গুদামে এল? কার নির্দেশে সেখানে রাখা হয়েছিল? কতদিন ধরে এই মজুত চলছিল? এমন একাধিক প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে শুরু করেছে। অভিযোগের তির উঠেছে এলাকার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা ও ঠিকাদারের দিকে। বিজেপির দাবি, প্রশাসনের নজর এড়িয়ে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি সামগ্রী গোপনে মজুত রাখা হয়েছিল। অভিযোগ, দুর্যোগের সময় সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছানোর বদলে ত্রাণসামগ্রী অন্যত্র সরিয়ে রাখার প্রবণতা নতুন নয়। এই ঘটনার সঙ্গে আরো কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করার দাবি তুলেছে বিজেপি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর উৎস ও বৈধতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে নথিপত্র যাচাইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। সামগ্রীগুলি সরকারি প্রকল্পের আওতায় এসেছিল কিনা, অথবা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে সেখানে রাখা হয়েছিল কিনা, তা তদন্তেই স্পষ্ট হবে। যদিও অভিযুক্ত তৃণমূল কংগ্রেস নেতার তরফে এখনো পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। প্রশাসনও আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ না খুললেও, তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রয়েছে জেলার রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের।
তরুণীকে প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেল! গ্রেফতার যুবক
বারুইপুর : বারুইপুরের এক তরুণীকে প্রেমের সম্পর্কে ফাঁসিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক করার অভিযোগে গ্রেফতার যুবক।অভিযোগ, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দীর্ঘদিন সম্পর্ক বজায় রাখার পর সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি অভিযুক্ত। এমনকি তরুণী দু'বার অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে জোর করে গর্ভপাত করানো হয় বলেও অভিযোগ। নির্যাতিতা তরুণীর অভিযোগ, বছর দু'য়েক আগে এক বন্ধুর মাধ্যমে পাইকপাড়ার বাসিন্দা যুবকের সঙ্গে পরিচয় হয়। অভিযুক্ত একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত ছিল। পরিচয়ের পর ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। দুই পরিবারের মধ্যেও যাতায়াত ছিল এবং তারা একাধিকবার বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতেও যান। তরুণীর দাবি, বারবার বিয়ের কথা তুললে অভিযুক্ত তাকে ব্ল্যাকমেল করতে শুরু করে। গোপন ছবি সোশ্যাল মিডিয়া ও অন্যত্র ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ।আর শেষ পর্যন্ত যুবকের চাপ নিতে না পেরে বারুইপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন তরুণী। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।বৃহস্পতিবার তাকে বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হলে বিচারক অভিযুক্তকে আগামী ১লা জুন পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।
বিজেপি কর্মীর পানের বরজ নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ
কাকদ্বীপ: দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলার গঙ্গাসাগরে ফের রাজনৈতিক হিংসার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল এলাকা। সাগর থানার অন্তর্গত মুড়িগঙ্গা-২নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের মন্দিরতলা গ্রামের ৩১ নম্বর বুথ এলাকায় এক বিজেপি কর্মীর পানের বরজ নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের তীর উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেস আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিজেপি কার্যকর্তা গনেশ দাস দীর্ঘদিন ধরে পানের চাষের সঙ্গে যুক্ত। অভিযোগ, বুধবার গভীর রাতে দুষ্কৃতীরা তাঁর পানের বরজে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে একাধিক পানের গাছ কেটে নষ্ট করে দেয়। বৃহস্পতিবার সকালে বরজে গিয়ে ক্ষতির চিত্র দেখে হতবাক হয়ে যান তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। ঘটনায় চাষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি গনেশ দাসের। গনেশ দাসের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরেই এই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, 'আমি বিজেপির সমর্থক হওয়ায় পরিকল্পিতভাবে আমার চাষের ক্ষতি করা হয়েছে। রাতের অন্ধকারে দুষ্কৃতীরা বরজে ঢুকে পানের গাছ কেটে দিয়েছে। এতে আমার প্রচুর আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।' অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বও ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। তাঁদের দাবি, বিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণেই এলাকায় বিজেপি কর্মীদের উপর বারবার হামলা ও ভয় দেখানোর চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, বিজেপি ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ করছে। ঘটনার সঙ্গে তৃণমূলের কোনো যোগ নেই বলেও দাবি করা হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
জমির নথি জাল করে বিক্রির অভিযোগ, গ্রেফতার এক
নিজেস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: জমির নথি জাল করে বিক্রির অভিযোগে গ্রেফতার জমি মাফিয়া মহম্মদ জাহিদের স্ত্রী জাসমিন খাতুন। মাটিগাড়া থানার পুলিশের হাতে গ্রেফতার মহিলা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১২ সালে এক মহিলা মাটিগাড়া পাঁচকেলগুরি এলাকায় ৩ কাঠা জমি কিনে ২০২১ সালে বিক্রি করেন। তিনি যাকে বিক্রি করেছেন তিনি জমির পূর্ব মালকিনকে অভিযোগ করে জানান অপর একজন একই জমির মালিকানা দাবি করছে। পরবর্তীতে পূর্ব মালকিন খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন অভিযোগকারী মহিলার থেকে জাসমিন খাতুনের নামে ভুয়ো ভাবে ২০২৪ সালে জমি কেনার জাল নথি রয়েছে। অভিযোগকারীর স্বাক্ষর জাল করে ও অন্য কারোর ছবি ব্যবহার করে সেই জমি কিনেছেন অভিযুক্ত জাসমিন খাতুন। সেখানে সাক্ষী হিসেবে নাম রয়েছে তার স্বামী মহম্মদ জাহিদের। ঘটনার পর মাটিগাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলে বুধবার জাসমিন খাতুনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশ সুত্রে আরো জানা গিয়েছে, একাধিক জমি মামলা রয়েছে অভিযুক্তর স্বামী মহম্মদ জাহিদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার ধৃতকে শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে পাঠানো হয়। ইতিমধ্যে পুরো ঘটনার তদন্তে নেমেছে মাটিগাড়া থানার পুলিশ।
ব্ল্যাকমেলের জেরে যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ, কাঠগড়ায় দম্পতি
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারুইপুর: ব্ল্যাকমেলের জেরে এক যুবকের মৃত্যু হল বারুইপুরে।মৃতের নাম অরুণাভ হালদার।ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে বারুইপুরে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে মঙ্গলবার গভীর রাতে বারুইপুর থানার সামনে বিক্ষোভে সামিল হলেন বারুইপুর ফুলতলার নেতাজি নগর 'এ'ব্লকের বাসিন্দারা। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, নেতাজি নগর 'এ'ব্লকের বাসিন্দা রূপা দাসের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল অরুণাভর। যদিও রূপা বিবাহিত। মৃতের পরিবারের সদস্যদের দাবি, সম্পর্কে থাকাকালীন অরুণাভের কাছ থেকে নানাভাবে টাকা পয়সা সহ নানা সুযোগ সুবিধা নিতো রূপা। সম্প্রতি ওই যুবক সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলে তাঁর উপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ। এছাড়াও করা হয় ব্ল্যাকমেল। পরিবারের আরো দাবি, সেই চাপ সহ্য করতে না পেরেই চলতি মাসের ২২ তারিখ আত্মহত্যার চেষ্টা করেন অরুণাভ। এরপরেজ পরিবারের সদস্যরাই তাঁকে উদ্ধার করে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করেন।গত ২৪শে মে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অরুনাভর মৃত্যু হয়। এর পরেই বারুইপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে মৃতের পরিবার। কিন্তু মূল অভিযুক্ত রূপা দাস ও তাঁর স্বামীর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার বাসিন্দারা। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
