Sports
খেলায় রাজনীতিকরণ না হওয়াই ভালো, বার্তা বিধায়কের
রায়গঞ্জ: শুরু হল টাউন ক্লাবের উদ্যোগে রায়গঞ্জ সুপার লীগ ২০২৬। দীর্ঘদিন ধরে রায়গঞ্জ তথা জেলার খেলোয়াড় দের মানোন্নয়নে সচেষ্ট টাউন ক্লাব। কিন্তু এখনো পর্যন্ত মেলেনি সরকারি অন্তর্ভুক্তি করণ। অভিযোগ, এর পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক কারণ। যদিও এদিন খেলার মাঠে উপস্থিত হয়ে খেলায় রাজনীতিকরণের বিরুদ্ধে বার্তা দেন রায়গঞ্জের বিধায়ক কৌশিক চৌধুরী। টাউন ক্লাব ময়দানে রায়গঞ্জ সুপার লীগ ২০২৬ এর শুভ উদ্বোধন হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রায়গঞ্জ বিধানসভার বিধায়ক কৌশিক চৌধুরী। ফুটবলে কিক মেরে খেলার সূচনা করেন তিনি। এদিনের খেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন কালিয়াগঞ্জ একাদশ ও ইউনাইটেড সুভাষগঞ্জ। ১-১ গোলে টাই হয় ম্যাচ। কালিয়াগঞ্জের হয়ে গোল করেন ভীম পাহান ও সুভাষগঞ্জের হয়ে গোল করেন পাপ্পু জমাদার। টাউন ক্লাবে উপস্থিত বিধায়ক কৌশিক চৌধুরী বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সঙ্গে রায়গঞ্জ তথা জেলার খেলোয়াড়দের মানোন্নয়নে সচেষ্ট রায়গঞ্জ টাউন ক্লাব। ভারতবর্ষের বিখ্যাত ফুটবলার তথা মোহনবাগানের ক্যাপ্টেন সত্যজিৎ হাওড়া জেলার হয়ে খেলতে এসেছিলেন এখানে। এছাড়াও এসেছেন প্রচুর স্বনামধন্য খেলোয়াড়। পাশাপাশি খুব সদ্য প্রীতিকার মত খেলোয়াড় দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছে। কিন্তু খেলোয়াড়দের বিকাশের জন্য অর্থনৈতিক সহায়তা প্রয়োজন। খেলাধুলার সামগ্রী কেনা থেকে খেলোয়াড়দের পুষ্টিকর খাবার সবকিছুতেই অর্থের প্রয়োজন, যতটা পারবো আমি পাশে থাকব। এই ক্লাব এখনো সরকারি অন্তর্ভুক্তিকরণ হয়নি শুনে অবাক হয়েছি। আমি এতদিন রাজনীতিতে ছিলাম খেলায় সরাসরি ছিলাম না। তাই খেলায় কি করে রাজনীতি প্রবেশ করলো জানিনা। তবে ৪ তারিখের পর থেকে খেলায় রাজনীতিকরণ হবে না। খেলার জায়গায় খেলা থাকবে, নাটকের জায়গায় নাটক থাকবে, যোগ্যরা নিজেদের জায়গা পাবে।' টাউন ক্লাব সম্পাদক অরিজিৎ ঘোষ বলেন, 'বিধায়ক হওয়ার আগে থেকেই কৌশিক বাবু এই মাঠে আসতেন। এখন বিধায়ক হওয়ার পর সুপার লীগের ব্যবস্থাপনা দেখে তিনি আপ্লুত। আমাদের পাশে থাকার বার্তা দেওয়ায় আমরাও উৎসাহিত। এবারে সুপার লীগের চ্যাম্পিয়ন দল কে কে শিল্ডে সরাসরি সুযোগ পাবে। এইভাবে মাইল ফলক সেট করে ছোট ছোট টুর্নামেন্ট করার ফলে খেলোয়াড় মধ্যে খেলার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। এই লীগ কাম নক আউট খেলার ফলে আগামীতে খেলোয়াড় রা আরো আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে।'
ট্রাকচালকের ছেলের স্বপ্নপূরণ, আইপিএলে কোটি টাকার চুক্তিতে নতুন তারকা
অভাব, অনিশ্চয়তা আর কঠোর পরিশ্রম—এই তিন স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়েই তৈরি হয়েছে মধ্যপ্রদেশের তরুণ পেসার Mangesh Yadav-এর জীবনকাহিনি। ছোট্ট গ্রাম থেকে উঠে এসে আজ তিনি আইপিএলের মঞ্চে, আর সেই পথচলার পিছনে রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রাম ও অদম্য ইচ্ছাশক্তি। মধ্যপ্রদেশের বোরগাঁও গ্রামের এক সাধারণ পরিবারে বড় হওয়া মঙ্গেশের বাবা রাম আওধ যাদব পেশায় ট্রাকচালক। অমানিশার ভোর থেকে শুরু করে দিনভর কঠিন পরিশ্রম করেও সংসার চালানোই ছিল তাঁর প্রধান লড়াই। ছেলের ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে বহুবার ঋণ নিতে হয়েছে, ধার করতে হয়েছে আত্মীয়দের কাছ থেকে। ক্রিকেটে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার আগে মঙ্গেশ টেনিস বল টুর্নামেন্ট খেলে জীবিকা নির্বাহ করতেন। বিভিন্ন রাজ্যে ঘুরে ঘুরে খেললেও যাতায়াত ছিল সাধারণ ট্রেন ও বাসেই। জীবনের বড় মোড় আসে কিশোর বয়সে, যখন তিনি নয়ডার একটি ক্রিকেট একাডেমিতে যোগ দেন। সেখানেই কোচ Phoolchand Sharma তাঁর প্রতিভা চিনে নিয়ে পাশে দাঁড়ান। এমনকি থাকার খরচও মকুব করে দেন, যা তাঁর জীবনে বড় পরিবর্তন আনে। পরবর্তীতে ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স—বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি লিগে নজরকাড়া বোলিং—তাঁকে জাতীয় স্তরে পরিচিতি এনে দেয়। এরপর সুযোগ আসে আইপিএলের ট্রায়ালে, যেখানে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার Dinesh Karthik তাঁর দক্ষতা পরীক্ষা করেন। বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বল করে নিজেকে প্রমাণ করেন মঙ্গেশ। অবশেষে আইপিএলের মিনি নিলামে Royal Challengers Bangalore তাঁকে ৫.২০ কোটি টাকায় দলে নেয়। এই সাফল্য শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং তাঁর পরিবারের বহু বছরের কষ্টের স্বীকৃতি। আজ আইপিএলের মঞ্চে দাঁড়িয়ে মঙ্গেশ যেন হাজারো সংগ্রামী তরুণের অনুপ্রেরণা। তাঁর এই যাত্রা প্রমাণ করে—সুযোগ, পরিশ্রম আর সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে স্বপ্ন একদিন বাস্তব হয়ই।
বিশ্বজয়ের পেছনে ধোনির পরামর্শ, জানালেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব
ভারতের টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক Suryakumar Yadav জানালেন, বিশ্বকাপ জয়ের পথে গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিলেন প্রাক্তন অধিনায়ক MS Dhoni। আন্তর্জাতিক মঞ্চে কীভাবে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হয়, সেই বিষয়ে ধোনির পরামর্শ দলকে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছিল বলে জানিয়েছেন সূর্য। সূর্যকুমার বলেন, বিশ্বকাপের আগে একটি অনুষ্ঠানে ধোনির সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। সেখানে ধোনি দলের শক্তির কথা উল্লেখ করে খেলোয়াড়দের সাহসী মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামার পরামর্শ দেন। তাঁর মতে, দলের প্রতিভা এবং আত্মবিশ্বাস ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে ভারত চ্যাম্পিয়ন হবেই। বিশ্বকাপ ফাইনাল এবং সেমিফাইনালে ধোনির উপস্থিতিও ক্রিকেটপ্রেমীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। দীর্ঘদিন প্রকাশ্যে খুব কমই দেখা যায় তাঁকে, কিন্তু বড় ম্যাচে তাঁর উপস্থিতি দলকে বাড়তি অনুপ্রেরণা দিয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই। এই জয়ের মাধ্যমে সূর্যকুমার যাদব ভারতের হয়ে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বিশ্বজয়ী অধিনায়কদের তালিকায় নিজের নাম লিখিয়েছেন। এর আগে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন MS Dhoni এবং Rohit Sharma। বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দ প্রকাশ করে সূর্য জানান, দেশের হয়ে আরও সাফল্য এনে দেওয়াই তাঁর লক্ষ্য। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আরও ট্রফি জয়ের জন্য দলকে প্রস্তুত রাখা হবে। তাঁর পরবর্তী বড় লক্ষ্য ২০২৮ সালের Summer Olympics 2028-এ সোনা জেতা এবং সেই বছর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও সাফল্য ধরে রাখা। তবে আপাতত কিছুদিন বিশ্রাম নেবেন সূর্যকুমার। এরপর আবার মাঠে ফেরার প্রস্তুতি শুরু করবেন। সামনে রয়েছে Indian Premier League, যেখানে ফের ব্যস্ত সূচিতে নামবেন তিনি।
বিশ্বকাপ ফাইনালে অখেলোয়াড়ি আচরণ, জরিমানা গুনতে হল অর্শদীপ সিংকে
বিশ্বকাপ ফাইনালের উত্তেজনার মাঝে অখেলোয়াড়ি আচরণের অভিযোগে শাস্তির মুখে পড়লেন ভারতের পেসার Arshdeep Singh। নিউজিল্যান্ডের ব্যাটার Daryl Mitchell-এর দিকে বল ছুড়ে দেওয়ার ঘটনায় তাঁকে জরিমানা করেছে International Cricket Council। আইসিসি জানিয়েছে, লেভেল-১ শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে অর্শদীপের ম্যাচ ফি’র ১৫ শতাংশ কেটে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর নামে একটি ডিমেরিট পয়েন্টও যোগ করা হয়েছে। গত ২৪ মাসে এটি অর্শদীপের প্রথম শাস্তিমূলক অপরাধ। ঘটনাটি ঘটে ম্যাচের ১১তম ওভারে। সেই সময় ম্যাচে ভারতের দাপট থাকলেও নিউজিল্যান্ডের ব্যাটাররা পরপর দুটি ছক্কা হাঁকান। এরপরই উত্তেজনার মুহূর্তে অর্শদীপ বলটি মিচেলের দিকে ছুড়ে দেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি আম্পায়াররা সঙ্গে সঙ্গে সামাল দেন। ম্যাচ শেষে অর্শদীপকে মিচেলের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। পরে ভারতীয় পেসার জানান, তিনি ওই আচরণের জন্য ক্ষমা চাইতেই গিয়েছিলেন। তবে ক্ষমা চাইলেও আইসিসির শাস্তি এড়াতে পারেননি তিনি। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ম্যাচে কোনও ক্রিকেটারের দিকে বিপজ্জনকভাবে বল বা অন্য বস্তু ছোড়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ম্যাচ রেফারি Andy Pycroft ঘটনাটি বিবেচনা করে জরিমানার সিদ্ধান্ত জানান।
