Opinion
ভারী শিল্পে জোর রাজ্য সরকারের, ২০ হাজার কর্মসংস্থানের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে শিল্পায়নকে আরও গতি দিতে ভারী শিল্প খাতে বড় উদ্যোগের কথা ঘোষণা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নতুন শিল্প প্রকল্প এবং সম্প্রসারণের মাধ্যমে আগামী কয়েক বছরে প্রায় ২০ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যে পালাবদলের পর শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা, বিনিয়োগ টানা এবং উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। নবান্ন সূত্রে খবর, ইঞ্জিনিয়ারিং, যন্ত্রাংশ উৎপাদন, ইস্পাত, ভারী যন্ত্র নির্মাণ এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পে একাধিক নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শিল্পাঞ্চলের পরিকাঠামো উন্নয়ন, জমি, বিদ্যুৎ, রাস্তা ও লজিস্টিক সুবিধা আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিও চালু করা হবে। শুক্রবার বাঁকুড়ার মেজিয়ায় একটি বেসরকারি ইস্পাত নির্মাণ শিল্প সংস্থার প্রায় ১৫, ০০০ কোটি টাকার কারখানা সম্প্রসারণ প্রকল্পের শিলান্যাস করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'রাজ্যে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং শিল্প বিনিয়োগই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। নতুন শিল্প স্থাপনের পাশাপাশি ক্ষুদ্র, মাঝারি ও ভারী শিল্পের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে একটি শক্তিশালী শিল্পভিত্তি গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।' তাঁর দাবি, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং রাজ্যের অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে।
পুরসভার ইতিহাসে নজির!সরকারের ঘরে ফিরছে কাউন্সিলর তহবিলের ১০০ কোটি টাকা
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের পুরসভার ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা। দীর্ঘদিন ধরে বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও খরচ না হওয়া কাউন্সিলর তহবিলের প্রায় ১০০ কোটি টাকা রাজ্য সরকারের কোষাগারে ফেরত যাচ্ছে। পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়া এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ অব্যবহৃত পড়ে থাকায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, বিভিন্ন পুরসভার কাউন্সিলরদের ওয়ার্ডভিত্তিক ছোট উন্নয়নমূলক কাজের জন্য এই তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছিল। রাস্তা মেরামত, নিকাশি ব্যবস্থা, পানীয় জল, আলোকসজ্জা, পার্ক সংস্কার সহ একাধিক জনপরিষেবা প্রকল্পে এই অর্থ ব্যয় করার কথা থাকলেও বহু ক্ষেত্রে প্রকল্পের অনুমোদন, টেন্ডার প্রক্রিয়া বা প্রশাসনিক জটিলতার কারণে অর্থ খরচ করা সম্ভব হয়নি। পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর ইতিমধ্যেই বিভিন্ন পুরসভা থেকে অব্যবহৃত অর্থের হিসাব চেয়ে পাঠিয়েছে। সেই পর্যালোচনার ভিত্তিতেই প্রায় ১০০ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। এই অর্থ পরবর্তী সময়ে রাজ্যের অগ্রাধিকারভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যবহার করা হতে পারে। পুর প্রশাসন মহলের মতে, এ ধরনের ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের পুরসভার ইতিহাসে কার্যত নজিরবিহীন। ফলে কাউন্সিলর তহবিলের ব্যবহার, প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি এবং আর্থিক শৃঙ্খলা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ঘরের ছেলে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী, আশায় শান্তিপুরবাসী
নিজস্ব প্রতিনিধি, নদিয়া: ঘরের ছেলে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ফলে জরা কাটিয়ে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে নতুন আশার আলো দেখছে শান্তিপুরবাসী। রাজ্যে পালাবদলের পর স্বপ্ন পূরণের সন্ধিক্ষণে এখন সমগ্ৰ রাজ্যবাসী। তবে নদিয়বাসী সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা এমনকি কালনার ব্রিজ, কল্যাণীতে এয়ারপোর্টের মতন নানান উন্নয়ণের ঘোষণা পেলেও শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রী সভায় জেলা থেকে মন্ত্রী না হওয়ার আক্ষেপ কিছুটা রয়েই গেছে। তবে যারা জানেন না তাদের কাছে আজকের পরে হয়তো সেই আক্ষেপ আর থাকবে না। বিধান নগরের জয়ী বিধায়ক রাজ্যের নবনিযুক্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রী শান্তিপুরেরই সন্তান। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই নদিয়া জেলা ও সংলগ্ন অঞ্চলের স্থানীয় জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে আশার আলো সঞ্চার হতে শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত শান্তিপুর এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকার গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির জরাজীর্ণ দশা এবার স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে ও আন্তরিকতায় দূর হবে বলে মনে করছেন সকলে। জানা গিয়েছে, বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পৈতৃক ভিটে নদিয়ার শান্তিপুরের বাগআঁচড়া গ্রামে। এই এলাকার অত্যন্ত জাগ্রত ও লোকপ্রিয় বাগদেবী মন্দিরে একটা সময়ে পৌরহিত্য করতেন তাঁর বাবা সুধীর মুখোপাধ্যায়। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর শৈশব কিন্তু এই গ্রামকে কেন্দ্র করেই। পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষা এবং পেশাগত তাগিদে তিনি কলকাতায় চলে যান। তবে ব্যস্ততার মাঝেও নিজের পৈতৃক ভিটের সঙ্গে তাঁর আত্মিক সম্পর্ক আজও অটুট। মন্দিরের বর্তমান পুরোহিত তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর জ্যাঠাতো ভাই শুভ্র মুখোপাধ্যায় (বাবাই) জানান, মন্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের নিয়মিত পারিবারিক আদান প্রদান রয়েছে।পারিবারিক নানা অনুষ্ঠান বা বাবার বাৎসরিক কাজেও তিনি নিয়মিত শান্তিপুরে আসেন। ২০১৮ সালে জ্যাঠামশাইয়ের প্রয়াণের সময়ও তিনি গ্রামে এসেছিলেন। শুভ্র মুখোপাধ্যায় আরও জানান, ওনার দাদা একজন অত্যন্ত কৃতি চিকিৎসক তথা অনকোলজিস্ট। ওনার আরেক ভাই থাকেন লন্ডনে। মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর শুভ্রবাবু ব্যক্তিগতভাবে দাদাকে ফোন করে চাঁদরা গয়েশপুর ও বাগআঁচড়া সহ শহরেরও পৌর ক্লিনিক সূত্রাগর মাতৃসদন সহ বেশ কিছু প্রাচীন স্বাস্থ্য পরিষেবা কেন্দ্রের সংস্কার করার জন্য এবং বেহাল অবস্থার কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, কোথাও জঙ্গল হয়ে গিয়েছে, আবার কোথাও নুন্যতম চিকিৎসাটুকু মিলছে না। স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাঁর ভাইয়ের কাছ থেকে সমস্ত তথ্য অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে শুনেছেন এবং এই পরিকাঠামোগত সংস্কারের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন বলে আশ্বাসও দিয়েছেন। পার্শ্ববর্তী কালনা হাসপাতালের ওপরেও এই অঞ্চলের বহু মানুষ নির্ভরশীল। তাই কালনা হাসপাতালের পরিকাঠামোকে আরও উন্নত করে সেটিকে আগামীদিনে স্টুডেন্টদের জন্য একটি মেডিকেল কলেজে রূপান্তর করা যায় কিনা, সেই বিষয়েও ভাবনাচিন্তা চলছে বলে মন্ত্রী জানিয়েছেন। প্রসঙ্গত, সাংসদ জগন্নাথ সরকার একটি বিশেষ কাজে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গেলে মন্ত্রী নিজেই তাঁর কাছে শান্তিপুরের সন্তান হিসেবে নিজের পরিচয় দেন। তিনি স্পষ্ট জানান যে, শান্তিপুরের প্রতিটি এলাকা সম্পর্কে তিনি দলীয় প্রতিনিধিদের থেকে কোনও অংশে কম খোঁজখবর রাখেন না। সাংসদ জগন্নাথ সরকারও জানান, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পৈতৃক ভিটে এখনও শান্তিপুরে রয়েছে এবং তিনি ঐতিহ্যবাহী বাগদেবী মন্দিরেরও একজন অংশীদার। আর এতেই সাংসদ আশাবাদী কেন্দ্র এবং রাজ্য ডবল ইঞ্জিন সরকার যেমন নানান বিষয়ের মতন স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও ব্যাপক উন্নয়ন করার উদ্যোগ নিয়েছেন তা শান্তিপুর এর ক্ষেত্রেও সমান গুরুত্ব পাবে। সাংসদ, বিধায়ক এবং মন্ত্রী, ত্রয়ী প্রচেষ্টায় এবার আশা পূরণ হবে শান্তিপুর এবং পার্শ্ববর্তী জেলার বিভিন্ন এলাকার। সারা রাজ্যের গুরুদায়িত্ব কাঁধে থাকলেও ঘরের ছেলের হাত ধরে শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালসহ গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলি আবারও প্রাণোচ্ছল হয়ে উঠবে এবং সমস্ত জরা কাটিয়ে সাধারণ মানুষ সুস্বাস্থ্য পাবে, এই আশায় বুক বাঁধছে শান্তিপুরবাসী।
দীর্ঘ ১২বছর পর দলীয় অফিস পুনঃউদ্ধার করল প্রদেশ কংগ্রেস
জয়নগর: রাজ্যে পালাবদলের পরে এবার নিজেদের দলীয় অফিস পুনঃউদ্ধারে নেমে পড়েছে কংগ্রেস ও সিপিআইএম।রবিবার জয়নগর ১নং ব্লকের জয়নগর থানার হরিনারায়ণপুর পঞ্চায়েতের গৌড়ের হাটে দীর্ঘ ১২ বছর তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে থাকা দলীয় অফিস পুনঃউদ্ধার করল প্রদেশ কংগ্রেস। এদিন জয়নগর ১নং ব্লক কংগ্রেস সভাপতি শঙ্কর রায়, জেলা কংগ্রেস নেতা তারিক আনোয়ার শেখ, শ্রীপুর পঞ্চায়েতের কংগ্রেস নেতা রোমি শেখ সহ একাধিক নেতৃত্বের উপস্থিতিতে দলীয় কার্যালয় উদ্ধার করে প্রদেশ কংগ্রেস। এদিন দলীয় অফিস থেকে উদ্ধার হওয়া সরকারি কিছু সামগ্রী জয়নগর থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় প্রদেশ কংগ্রেসের তরফে।
লোকালয়ে স্কুল থেকে চা-বাগান, বাজার দাপিয়ে বেড়ালো হাতির দল
ডুয়ার্স: স্কুলে ঢুকল হাতির পাল। ভোর থেকেই তটস্থ ডুয়ার্স। শাবক সহ হাতির দল দাপিয়ে বেড়াল চা বাগান, পিচ রাস্তা, লোকালয়। আর এবার সরাসরি ঢুকে পড়ল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। শনিবার বানারহাটের তেলিপাড়ার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চত্বরে ঘুরে বেড়াচ্ছে গোটা হাতির পাল। শাবকদের আগলে রেখে স্কুলের বারান্দার সামনে দাঁড়িয়ে পূর্ণবয়স্ক হাতিরা। ভাগ্য ভালো, ভোরবেলা স্কুল বন্ধ। এদিন ভোরবেলা হলদিবাড়ি চা-বাগানের শ্রমিকরা প্রথম দেখতে পান হাতির দলকে। চা-বাগানের সরু পথ ধরে, পিচ রাস্তা পার হয়ে দলটি ঢুকে পড়ে তেলিপাড়া, কালুয়া কলোনি এলাকায়। সীমানা প্রাচীর ঘেঁষে রাস্তায় উঠে আসে তারা। সেখান থেকেই সোজা ঢুকে পড়ে স্কুল চত্বরে। আতঙ্ক শুধু এখানেই শেষ নয়। জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ি শহরেও তিনটি হাতি ঢুকে পড়ার খবর মেলে। লোকালয়ের রাস্তার পাশে বন্ধ দোকানের শাটারের সামনে, ঝোপের আড়াল থেকে উঁকি দিতে দেখা যায় একটি হাতিকে। ভোরের আলোয় ফাঁকা রাস্তা, বন্ধ দোকান, আর তার পিছনেই ওঁত পেতে দাঁড়িয়ে গজরাজ। এই ছবি দেখেই শিউরে উঠছেন বাসিন্দারা। স্কুলে হাতি ঢোকার খবর ছড়াতেই আতঙ্ক আরও বাড়ে। বন দফতর সূত্রে খবর, হাতিগুলিকে জঙ্গলে ফেরানোর কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু শাবক থাকায় এবং লোকালয় ও স্কুল চত্বরে ঢুকে পড়ায় চরম সতর্কতা নিতে হচ্ছে বনকর্মীদের। বন দফতরের প্রাথমিক অনুমান, বর্ষার শুরুতে জঙ্গলে খাবারের টানে লোকালয়ে নেমে আসছে হাতির পাল। হাতির যাতায়াতের পুরনো করিডোরগুলিতে বাধা তৈরি হওয়ায় তারা দিশেহারা হয়ে ঢুকে পড়ছে লোকালয়, এমনকি স্কুলেও।
রাধিকাপুরে চালু হচ্ছে হোল্ডিং সেন্টার
রায়গঞ্জ: উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ ব্লকের রাধিকাপুরে শুরু হতে চলেছে প্রথম ডিটেনশন ক্যাম্প বা হোল্ডিং সেন্টার। পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আপাতত জেলায় একটি হোল্ডিং ক্যাম্প সেন্টার চিহ্নিত হল।এই ক্যাম্পে কমপক্ষে ৫০ জন অনুপ্রবেশকারীকে রাখার মতো পরিকাঠামো প্রস্তুত আছে। নতুন এই হোল্ডিং সেন্টারের জন্য কালিয়াগঞ্জ বিডি অফিস থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে রাধিকাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত রামগঞ্জ গ্রামের উৎসব ভবন নামে দ্বিতল ভবনকে বেছে নেওয়া হয়েছে। সেখানে ১১ ফুট বাই ১২ ফুটের তিনটি ঘর, ৩০ ফুট বাই ৪০ ফুটের একটি হল ঘর রয়েছে। শৌচাগারের সুব্যবস্থা রয়েছে। খুব শীঘ্রই আটক বা গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীদের সেখানে রাখার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে খবর প্রশাসনের সূত্রে। রাজ্য সরকারের নির্দেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে ও উত্তর দিনাজপুর জেলার দুই পুলিশ জেলা রায়গঞ্জ ইসলামপুরে হোল্ডিং সেন্টার তৈরি প্রক্রিয়া শুরু হয়। জেলাশাসক বিবেক কুমার জানিয়েছেন, আপাতত রাধিকাপুরের এই কেন্দ্রটি চালু রাখা হবে। অন্যদিকে রায়গঞ্জের পুলিশ সুপার সোনাওয়ানে কুলদীপ সুরেশ বলেন, 'রাধিকাপুরের ওই ভবনটি ইতিমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং দ্রুত সেখানে অনুপ্রবেশকারীদের রাখার কাজ শুরু হবে।'
ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত এক, গুরুতর জখম ৩
জঙ্গিপুর: মালদা ফেরার পথে নিয়ন্ত্রণহীন দুই বাইকের মুখোমুখি ভয়াবহ সংঘর্ষে মর্মান্তিক মৃত্যু হল এক যুবকের। গুরুতর জখম আরও তিন। ঘটনায় সোমবার সন্ধায় গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে মুর্শিদাবাদে জঙ্গিপুর মহকুমার অন্তর্গত ফরাক্কার গান্ধীঘাট এলাকায়।নিহত ওই যুবক দেব মণ্ডল(২০)। বাড়ি উত্তরবঙ্গের মালদার কালিয়াচক এলাকায়। পরবর্তীতে পুলিশ পৌঁছে ঘটনাস্থল থেকে দুর্ঘটনা গ্রস্থ দু'টি বাইককে আটক করে ও জখম দের চিকিৎসার জন্য স্থানীয় বেনিয়া গ্রাম হাসপাতালে পাঠায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এদিন গান্ধী ঘাট এলাকা থেকে দেব সহ একটি বাইকে তার ৩ বন্ধু মিলে ফারাক্কা ব্যারেজ চেকপোস্টের দিকে যাচ্ছিল। সামনে দিক থেকে আসা অপর একটি বাইক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে অবতীর্ণ হয়। বিকট আওয়াজে চারজন রাস্তার ওপর ছিটকে পড়ে। স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে তড়িঘড়ি ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বেনিয়া গ্রাম হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানেই দেবকে মৃত বলে ঘোষণা করে চিকিৎসক। দেহ সনাক্তকরণের জন্য খবর দেওয়া হয় তার কালিয়াচকের বাড়িতে। পাশাপাশি জখমদের চিকিৎসার জন্য অন্যত্র স্থানান্তরিত করা হয়। ঘটনায় গুরুতর যখম এক কিশোর তথা দ্বাদশ শ্রেণীর পড়ুয়া কালিয়াচকের বাসিন্দা জোজো দাস বলেন, 'আমি এখানে একটি হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করি। সেইমতো বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে নিউ ফারাক্কা স্টেশনে আসছিলাম ট্রেন ধরার জন্য। আচমকা পথে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে, আমরা সকলে রাস্তার ওপর ছিটকে পরি। আমি ও অন্যান্যরা কোন রকমে প্রাণে বাঁচলেও। দেবকে বাঁচানো গেল না।
চম্পাহাটি কি মাদক চক্রের নতুন স্বর্গরাজ্য! অন্ধকরে তলিয়ে যাচ্ছে যুবসমাজ
দক্ষিণ ২৪ পরগনা: দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা চম্পাহাটি। কিন্তু এই এলাকায় বছরের পর বছর ধরে পরিচিতি পাল্টাচ্ছে এক অন্ধকার জগতের হাত ধরে। অভিযোগ , প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে চম্পাহাটি স্টেশন ও তার সংলগ্ন এলাকাগুলিতে রমরমিয়ে চলছে মাদক করবার।দিনের আলো নামতেই চেনা চম্পাহাটির আড়ালে সক্রিয় হয়ে উঠেছে নিষিদ্ধ মাদকের এক বিশাল চক্র। স্থানীয় সূত্রে খবর , এলাকার কিছু নির্দিষ্ট পকেট এখন কেনাবেচার মূল কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। শুধু স্থানীয় যুবকরাই নয় , এলাকার আশেপাশের গ্রাম থেকেও বহু মাদকাসক্ত ও নিয়মিত এখানে যাতায়াত করছে। এর ফলে একদিকে যেমন এলাকার চুরি উপদ্রব বাড়ছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো স্কুল ও কলেজের পড়ুয়ারা এই মরণনেশার জালে জড়িয়ে পড়েছে। অল্পবয়সী তরুণদের লক্ষ্য করে মোবাইল আপ এবং গোপন কোড ল্যাংগুয়েজের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে নেটওয়ার্ক। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি , পুলিশ মাঝেসাজে তল্লাশি চালালেও মূল পান্ডারা অধরাই থেকে যাচ্ছে। চম্পাহাটিকে মাদক মুক্ত করতে প্রসানকে আরও কঠোর এবং স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া ঔষধ দেওয়ার অভিযোগ, কাঠগড়ায় গ্রামীন হাসপাতাল
নদিয়া: এবারে মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া ওষুধ দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল নদিয়ার নবদ্বীপ ব্লকের মহেশগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতালে। অভিযোগ নবদ্বীপ ব্লকের মহেশগঞ্জ মায়াপুর মোড় এলাকার গৃহবধূ ঝুমা দেবনাথ গত শনিবার ২৩শে মে তার পাঁচ বছরের ছেলের পেট ব্যাথা অনুভব করায় মহেশগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসেন। সেখানেই ডাক্তার দেখালে, কিছু ওষুধ লিখে দেয় যা হাসপাতালের তরফেই দেওয়া হয় বিনামূল্যে। অভিযোগ, গৃহবধূ বাড়ি গিয়ে ছেলেকে ওষুধ খাওয়াতে গেলে দেখেন ওষুধের মান খারাপ। পাশাপাশি ওষুধের প্যাকেটের গায়ে নজর করতেই চক্ষু চড়ক গাছ। দেখা যায় ওষুধের প্যাকেটের গায়ে ওষুধের মেয়াদ শেষের তারিখ লেখা চলতি বছরের এপ্রিল মাসের। সেই সময় ওষুধ গুলো ছেলেকে না খাইয়ে রেখে দেন তিনি। পরবর্তী সময়ে স্থানীয়দের জানালে তা নিয়ে সোমবার মহেশগঞ্জ হাসপাতালে এসে হাসপাতাল কতৃপক্ষ তথা বিএমওএইচ ইলিশা দাস কে ঘটনাটি জানিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। যদিও ঘটনা নিয়ে বিএমওএইচ সংবাদ মাধ্যমের সামনে মুখ খুলতে চায় নি। তবে হাসপাতাল সুত্রে খবর প্রতি ১৫ দিন অন্তর ওষুধের স্টক চেক করা হয়। তারপরেও কীভাবে একমাস আগের মেয়াদ উত্তির্ন ওষুধ রোগীকে দেওয়া হল তা খতিয়ে দেখছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি এও জানা যায় এই ঘটনা চাউর হতে হাসপাতালের তরফেও বর্তমানের সরবরাহ ওষুধের ওপর নজর রাখা হচ্ছে। ঘটনায় প্রশ্ন উঠছে ওই মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া ব্যাচের ওষুধ আর কতো মানুষকে দেওয়া হয়েছে।
