Lifestyle
পুজোর আগেই বড় রাজ্যের ঘোষণা, চা-শ্রমিকদের ২০ শতাংশ বোনাস
শিলিগুড়ি: দুর্গাপুজোর আগে উত্তরবঙ্গের চা-শ্রমিকদের জন্য বড় ঘোষণা রাজ্য সরকারের। পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্সের চা-বাগানের শ্রমিকদের ২০ শতাংশ হারে পুজো বোনাস দেওয়ার জন্য শ্রম দফতরের তরফে অ্যাডভাইজ়ারি জারি করা হয়েছে। আগামী ৫ অক্টোবরের মধ্যে শ্রমিকদের বোনাস মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফে। রাজ্যের শ্রম দফতরের উত্তরবঙ্গ জোনের অতিরিক্ত শ্রম কমিশনার অমল মজুমদারের সই করা ওই নির্দেশিকায় ২০ শতাংশ হারে বোনাস দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, উত্তরবঙ্গের প্রায় ২৭৫টি চা-বাগানে তিন লক্ষেরও বেশি শ্রমিক রয়েছেন। ফলে সরকারের এই সিদ্ধান্তে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক উপকৃত হবেন। উল্লেখযোগ্য ভাবে, বোনাস নিয়ে শ্রমিক ও চা-বাগান মালিকদের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের আগেই এই অ্যাডভাইজ়ারি জারি করল রাজ্য। আগামী ১০ ও ১১ সেপ্টেম্বর বোনাস নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তার আগেই সরকারের ২০ শতাংশ বোনাসের বার্তা কার্যত শ্রমিকদের দাবিকেই মান্যতা দিল বলে মনে করা হচ্ছে। তবে কয়েকটি চা-বাগানে গত বছরের বোনাসের কিস্তি এখনও বকেয়া রয়েছে বলে অভিযোগ। ফলে চলতি বছরের বোনাস নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কী ভাবে দেওয়া হবে, তা নিয়ে নজর রয়েছে শ্রমিক মহলের। পুজোর মুখে রাজ্যের এই ঘোষণায় উত্তরবঙ্গের চা-বলয়ে স্বস্তির হাওয়া। শ্রমিক সংগঠনগুলির দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে কাজ করা চা-শ্রমিকদের উৎসবের আগে এই বোনাস তাঁদের পরিবারগুলির আর্থিক চাপ অনেকটাই কমাবে।
মায়াপুর থেকে জ্বলপথে বাবুঘাট ফেরী চলাচলের উদ্যোগ রাজ্য সরকারের
নদীয়া: এবারে তীর্থনগরী মায়াপুর থেকে বাবুঘাট চলবে ফেরি। প্রকল্পের ঘোষণা হয়েছিল তৃণমূলের আমলে, কিন্তু সরকারের থাকাকালীন তা বাস্তবায়িত হয়নি। এবার রাজ্যে পালা বদলের পর বিজেপি সরকারের হাত ধরে তীর্থনগরী মায়াপুর থেকে বাবুঘাট পর্যন্ত জলপথে ফেরি চলাচলের নেওয়া হল উদ্যোগ। জানা গিয়েছে, বাবুঘাট এবং মায়াপুরের মধ্যে প্রথম পর্যায়ে দুইটি হাইব্রিড ডিজেল ইলেকট্রিক ফ্রি চালানো হবে। দেশ ও বিদেশ থেকে প্রচুর পরিমানে পর্যটকের আনাগোনা হয় নবদ্বীপ ও মায়াপুর ইসকনে। বিদেশ থেকে কলকাতা বিমানবন্দরে নেমে দীর্ঘ সড়কপথে মায়াপুর পৌঁছতে বিদেশীরা অনেকেই অস্বস্তি বোধ করেন। শুধু তাই নয় কলকাতা থেকে সড়কপথে এবং ট্রেন পথে হাজার হাজার পর্যটক প্রতিদিন তীর্থ নগরীতে আসেন। বাবুঘাট থেকে মায়াপুরের প্রভুপাদ ঘাট পর্যন্ত ফেরি ব্যবস্থা চালু হলে পর্যটক ব্যবস্থার প্রভূত উন্নতি ঘটবে। এই বিষয়ে সাংসদ জগন্নাথ সরকার জানান, আগের সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কিন্তু প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থ। রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসতেই ডবল ইঞ্জিন সরকার পর্যটন ব্যবস্থার উন্নতিকরণে এই অভিনব পদক্ষেপ নিয়েছে। নবদ্বীপ থেকে বাবুঘাট জলপথে ফেরি চালু হলে পর্যটন ব্যবস্থার উন্নতি ঘটবে একই সাথে হেরিটেজ সিটি নবদ্বীপ মায়াপুর সমগ্র বিশ্বে আরো বেশি করে সমাদ্রিত হবে। জলপথে এই ফেরি ব্যবস্থা চালু হলে পর্যটকরা ভালোভাবে জলযাত্রা উপভোগ করতে পারবেন। তাই বর্তমান সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে অসংখ্যাধন্যবাদ এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করার জন্য।
তামিলনাড়ুর শিবকাশীতে আতসবাজি কারখানায় হঠাৎ বিস্ফোরণ, বড় দুর্ঘটনা এড়াল প্রশাসন
Sivakasi এলাকায় অবস্থিত একটি আতসবাজি তৈরির কারখানায় বৃহস্পতিবার রাতে আচমকা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি ঘটে প্রায় রাত সাড়ে ৯টার সময়, যখন কারখানার কেমিক্যাল মিশ্রণ বিভাগের একটি ঘরে হঠাৎ বিস্ফোরণ হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, Sri Kaliswari Fireworks Private Limited-এর কারখানার ওই অংশে বিস্ফোরণের পরপরই আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় Sivakasi Fire and Rescue Services-এর একাধিক দমকল ইঞ্জিন। দমকলকর্মীরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে আগুন নেভাতে সক্ষম হন। তাদের তৎপরতার ফলে আগুন কারখানার অন্য ইউনিট বা আশপাশের ঘরে ছড়িয়ে পড়ার আগেই নিয়ন্ত্রণে আসে। ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে দমকল বিভাগ। সবচেয়ে স্বস্তির খবর, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও শ্রমিক বা কর্মচারীর আহত বা মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তবে বিস্ফোরণের কারণ খতিয়ে দেখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। উল্লেখ্য, শিবকাশী এলাকা আতসবাজি শিল্পের জন্য দেশজুড়ে পরিচিত। এখানে বহু ছোট-বড় কারখানায় আতসবাজি তৈরি হয়। অতীতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যার কারণে একাধিক দুর্ঘটনাও ঘটেছে, তাই এই ধরনের ঘটনায় প্রশাসন বিশেষভাবে সতর্ক থাকে।
বাণিজ্যিক গ্যাসের সংকটে বিপাকে হোটেল ব্যবসা, মেনু কমাতে বাধ্য মালিকরা
বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের অপ্রতুলতার জেরে সমস্যায় পড়েছেন ছোট ও মাঝারি হোটেল ব্যবসায়ীরা। বিশেষ করে জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ি এলাকায় অনেক হোটেল মালিকই বাধ্য হয়ে তাঁদের মেনু থেকে বেশ কিছু খাবারের পদ বাদ দিচ্ছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও পড়েছে। এর ফলে এলপিজি সিলিন্ডারের সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক গ্যাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন কিছু শর্ত আরোপ হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে অনেক হোটেল মালিক খরচ কমাতে খাবারের তালিকা ছোট করছেন। আবার কেউ কেউ সন্ধ্যা ও রাতের খাবার তৈরিই বন্ধ করে দিয়েছেন, কারণ পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় পুরো দিন রান্না চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে হোটেল ব্যবসায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হতে পারে এবং কর্মসংস্থানেও প্রভাব পড়তে পারে। স্থানীয় প্রশাসনের কাছেও বিষয়টি জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী।
দার্জিলিং-সিকিমে রান্নার গ্যাস সংকট, হোটেল-রেস্তরাঁর ব্যবসায় দুশ্চিন্তা
ভরা বসন্তে পাহাড় ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন পর্যটকরা, কিন্তু দার্জিলিং ও সিকিমে হোটেল এবং রেস্তরাঁয় রান্নার গ্যাস সংকট আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এলপিজি সিলিন্ডারের জোগান ব্যাহত হলে হোটেল ও রেস্তরাঁ চালানো কঠিন হয়ে যাবে। উত্তরবঙ্গ ও সিকিমের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে বাণিজ্যিক এলপিজি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার কারণে রেস্তরাঁ ও হোটেল শিল্পে সঙ্কট দেখা দিতে পারে। যদি দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয়, বহু হোটেল এবং রেস্তরাঁ বন্ধ হওয়ার মুখে যেতে পারে। খাদ্য সামগ্রীর দামও হুহু করে বাড়তে পারে, ফলে পর্যটকরা বিপাকে পড়তে পারেন। এই মুহূর্তে দার্জিলিং ও সিকিম পর্যটক ঠাসা, মনোরম আবহাওয়ায় ভিন রাজ্যের পর্যটকরাও ভিড় জমাচ্ছেন। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে বেড়ে চলা যুদ্ধ পরিস্থিতি বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। ভারত প্রধানত সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, কাতার, কুয়েত, সৌদি আরব থেকে এলপিজি গ্যাস সংগ্রহ করে। হরমুজ প্রণালীতে চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অন্তত ৩৭টি জাহাজ আটকে গেছে। এর ফলে দেশে রান্নার গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং হোটেল-রেস্তরাঁ শিল্পে তীব্র প্রভাব পড়ছে। উত্তরবঙ্গ এবং সিকিমে পর্যটন শিল্প এখন এলপিজি সংকট মোকাবিলায় কপালে ভাঁজ ফেলেছে, এবং ব্যবসায়ীরা এই সংকটের দ্রুত সমাধানের জন্য আশাবাদী।
