Travels

রাঁচি-দেওঘর ছাড়াও ঝাড়খণ্ডে আছে অফবিট স্বর্গ! ৩ দিনের ট্রিপে ঘুরে আসুন নেতারহাট ও বেতলা
অনেকের কাছে ঝাড়খণ্ড মানেই শুধু Ranchi বা Deoghar। কিন্তু এই রাজ্যের নানা কোণায় ছড়িয়ে রয়েছে অসাধারণ সব অফবিট ভ্রমণ গন্তব্য। হাতে যদি মাত্র তিন দিন সময় থাকে, তাহলে সহজেই ঘুরে আসতে পারেন Netarhat ও Betla। ছোটনাগপুর মালভূমির “রানি” নামে পরিচিত নেতারহাটের পাহাড়ি সৌন্দর্য এবং বেতলার জঙ্গলে বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি—এই দুই মিলিয়ে কয়েক দিনের ট্রিপ হয়ে উঠতে পারে দারুণ অভিজ্ঞতা। প্রথম দিন: রাঁচি থেকে নেতারহাট সকালে রাঁচিতে পৌঁছে গাড়ি ভাড়া করে নেতারহাটের দিকে যাত্রা শুরু করুন। প্রায় ১৫৫ কিলোমিটার পথ, কিন্তু চারপাশের পাহাড় ও জঙ্গলের দৃশ্য পথকেই করে তোলে উপভোগ্য। পথে ঘুরে দেখতে পারেন ঝাড়খণ্ডের অন্যতম উঁচু জলপ্রপাত Lodh Falls। এছাড়া কাছেই রয়েছে Lower Ghaghri Falls এবং Upper Ghaghri Falls। বিকেলের দিকে নেতারহাট পৌঁছে সূর্যাস্ত দেখতে পারেন বিখ্যাত Magnolia Sunset Point থেকে। মনোরম পরিবেশে রাত কাটান নেতারহাটেই। দ্বিতীয় দিন: নেতারহাট থেকে বেতলা ভোরে উঠে সূর্যোদয় উপভোগ করুন Koel View Point থেকে। এরপর কাছাকাছি পাইন জঙ্গল ও ঐতিহ্যবাহী Netarhat Residential School দেখে নিতে পারেন। দুপুরের দিকে বেতলার উদ্দেশ্যে রওনা দিন, দূরত্ব প্রায় ৯০ কিলোমিটার। পথে দেখে নিতে পারেন Keochki Sangam—যেখানে উত্তর কোয়েল ও অওরঙ্গা নদীর মিলন হয়েছে। সন্ধ্যার মধ্যে পৌঁছে যান বেতলায়। তৃতীয় দিন: বেতলা জঙ্গল সাফারি শেষ দিনে সকালে ঘুরে নিন বিখ্যাত Betla National Park। জঙ্গল সাফারিতে ভাগ্য ভালো থাকলে হাতি, হরিণ কিংবা নীলগাইয়ের দেখা মিলতে পারে। এরপর কাছেই অবস্থিত ঐতিহাসিক Palamau Fort ঘুরে দেখুন। দুপুরের পর রাঁচির দিকে রওনা দিন। পথে সময় থাকলে সুন্দর পাহাড়ি রাস্তার জন্য পরিচিত Patratu Valley ঘুরে নেওয়াও যেতে পারে। কম সময়ের মধ্যেই প্রকৃতি, পাহাড়, জঙ্গল ও ইতিহাস—সবকিছুর স্বাদ পেতে চাইলে নেতারহাট ও বেতলা হতে পারে ঝাড়খণ্ড ভ্রমণের এক দুর্দান্ত অফবিট পরিকল্পনা।

দার্জিলিংয়ের কাছে লুকিয়ে থাকা স্বর্গ—একবার গেলে ফিরতে মন চাইবে না ‘গুমটি গাঁও’ থেকে
‘গুমটি’ শব্দটা শুনলেই অনেকের মনে হয় ছোট্ট, অগোছালো একটা জায়গা। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের পাহাড়ে এমন এক ‘গুমটি’ আছে, যেখানে একবার গেলে মন ভরে যায় প্রকৃতির সৌন্দর্যে। আমরা বলছি দার্জিলিং জেলার ছোট্ট পাহাড়ি গ্রাম Gumti Gaon–এর কথা। Darjeeling শহর থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই গ্রামটি ধীরে ধীরে পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ঘন অ্যালপাইন বন, বিস্তীর্ণ চা বাগান এবং দূরে তুষারঢাকা Mount Kanchenjunga–র মনোমুগ্ধকর দৃশ্য এই জায়গাটিকে করে তুলেছে অনন্য। শহরের কোলাহল থেকে দূরে শান্ত পরিবেশ ও স্থানীয় মানুষের আন্তরিক আতিথেয়তা গুমটি গাঁওকে এক আদর্শ অফবিট ভ্রমণস্থল বানিয়েছে। কেন যাবেন? যাঁরা প্রকৃতির মাঝে নিরিবিলি সময় কাটাতে চান, তাঁদের জন্য গুমটি গাঁও একেবারে উপযুক্ত জায়গা। সকালে কুয়াশা ঢাকা পাহাড়, সবুজ চা বাগান আর কাঞ্চনজঙ্ঘার অপূর্ব দৃশ্য মনকে শান্ত করে দেয়। শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে কয়েকটা দিন কাটানোর জন্য এটি দারুণ একটি গন্তব্য। কী দেখবেন? গ্রামটির চারপাশ জুড়ে রয়েছে ঘন বন ও সবুজ চা বাগান। ভোরবেলায় হাঁটতে বেরোলেই দেখা যায় পাহাড়ি প্রকৃতির অনন্য রূপ। কাছেই রয়েছে Gorkha Stadium। এছাড়া ছোটদের জন্য রয়েছে একটি শিশু উদ্যান এবং একটি পুরোনো রেসকোর্স এলাকা। গুমটি গাঁও থেকে খুব সহজেই ঘুরে নেওয়া যায় দার্জিলিংয়ের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলো—Tiger Hill, Himalayan Mountaineering Institute, Peace Pagoda, Padmaja Naidu Himalayan Zoological Park এবং Darjeeling Mall। কী করবেন? এখানে এলে বার্ড ওয়াচিং বা পাখি দেখা অন্যতম জনপ্রিয় অভিজ্ঞতা। চারপাশের বন ও পাহাড়ি পথে হাঁটতে হাঁটতে দেখা মিলতে পারে নানা রঙের হিমালয়ান পাখির। এছাড়া চা বাগানের পথে হাঁটা, স্থানীয় গ্রামজীবন দেখা এবং ভিউ পয়েন্ট থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য উপভোগ করাও ভ্রমণের বিশেষ আকর্ষণ। কীভাবে যাবেন? গুমটি গাঁও পৌঁছানোর সবচেয়ে সহজ উপায় হলো প্রথমে ট্রেনে করে New Jalpaiguri Railway Station অথবা বিমানে Bagdogra Airport পৌঁছানো। সেখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে দার্জিলিং হয়ে সহজেই পৌঁছে যাওয়া যায় গুমটি গাঁও। কোথায় থাকবেন? এই গ্রামটি অফবিট হওয়ায় এখানে বড় হোটেল নেই। তবে কয়েকটি সুন্দর হোমস্টে ও ছোট রিসর্ট রয়েছে, যেখানে পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক সুবিধাও পাওয়া যায়। কখন যাবেন? গুমটি গাঁও সারা বছরই সুন্দর, তবে শীতকাল এখানে ভ্রমণের জন্য বিশেষ জনপ্রিয়। পরিষ্কার আকাশে তখন কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য আরও স্পষ্ট দেখা যায়। বসন্তে আবার পাহাড়ের প্রকৃতি নতুন রঙে সেজে ওঠে, যা ভ্রমণকে করে তোলে আরও স্মরণীয়।

প্রকৃতির কোলে শান্তির খোঁজে সামসিং — ডুয়ার্সের লুকানো স্বর্গ
উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্স অঞ্চলে অবস্থিত ছোট্ট পাহাড়ি গ্রাম Samsing প্রকৃতি প্রেমীদের কাছে এক অসাধারণ ভ্রমণস্থল। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩০০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই শান্ত গ্রাম চারদিকে সবুজ চা-বাগান, জঙ্গল এবং পাহাড়ি নদীর সৌন্দর্যে ঘেরা। শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে গিয়ে কিছুদিন প্রকৃতির মাঝে কাটাতে চাইলে সামসিং হতে পারে দারুণ একটি জায়গা। কেন ঘুরতে যাবেন যাঁরা অফবিট ট্রাভেল পছন্দ করেন, তাঁদের কাছে সামসিং বিশেষ আকর্ষণীয়। এখানকার নির্মল পরিবেশ, শীতল হাওয়া এবং সবুজে ঘেরা পাহাড়ি দৃশ্য মনকে প্রশান্ত করে। বিশেষ করে অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি সময়টা এখানে ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। এই সময় এলাকাজুড়ে দেখা যায় কমলা ও এলাচের বাগান, যা পুরো অঞ্চলকে আরও রঙিন করে তোলে। দর্শনীয় স্থান সামসিংয়ে গেলে অবশ্যই ঘুরে দেখতে পারেন Samsing Rock Garden। এখানে ছোট জলপ্রপাত এবং পাহাড়ি নদীর মিলনে তৈরি হয়েছে দারুণ এক প্রাকৃতিক পরিবেশ। প্রকৃতির মাঝে বসে সময় কাটানো বা ছোটখাটো পিকনিকের জন্য জায়গাটি বেশ জনপ্রিয়। এছাড়াও কাছেই রয়েছে সুন্দর Murti River। পাথরের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এই স্বচ্ছ নদীর জল এবং চারপাশের সবুজ জঙ্গল মিলে তৈরি করে মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় এই জায়গার সৌন্দর্য আরও বেশি ফুটে ওঠে। অন্যদিকে কাছাকাছি রয়েছে Neora Valley National Park। অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীরা এখানে জঙ্গলের মধ্যে ট্রেকিং করে অনন্য অভিজ্ঞতা পেতে পারেন। অনেক পর্যটক কাছের Suntalekhola এলাকা থেকে ট্রেক শুরু করেন। কীভাবে পৌঁছবেন সামসিং Siliguri শহর থেকে প্রায় ৮০-৮৫ কিলোমিটার দূরে। শিলিগুড়ি থেকে গাড়িতে করে সহজেই পৌঁছানো যায়। যাত্রাপথে চা-বাগান, পাহাড়ি রাস্তা এবং জঙ্গলের দৃশ্য ভ্রমণকে আরও আনন্দদায়ক করে তোলে। তবে রক গার্ডেনের দিকে যাওয়ার রাস্তা কিছুটা সরু হওয়ায় সাবধানে যাতায়াত করা ভালো।
