ঝাড়গ্রামে তৈরি হবে টাইগার সাফারি, বনমন্ত্রী মনোজ ওরাও

N
news13s_staff@gmail.comNews13s Verified
3 min read
Share
ঝাড়গ্রামে তৈরি হবে টাইগার সাফারি, বনমন্ত্রী মনোজ ওরাও
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: ঝাড়গ্রামে টাইগার সাফারিকে কেন্দ্র করে তৈরি হবে বিপুল পর্যটনের সম্ভাবনা। প্রকল্পটি চালু হলে দ্বিগুন সংখ্যায় পর্যটকদের আনাগোনা শুরু হবে ঝাড়গ্রামে। বুধবার রাজ্য বনদফতরের মন্ত্রী মনোজ ওড়াও ঝাড়গ্রামে পরিদর্শনে এসে এমনটাই জানালেন। আগামী দেড়-দু'বছরের মধ্যেই টাইগার সাফরি প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে জানান বনমন্ত্রী। পাশাপাশি বনদফতরের জমি বেআইনিভাবে দখল করলে সরাসরি ব্যবস্থা নেবে দফতর বলেও হুশিয়ারী দেন বনমন্ত্রী। এদিন প্রথমে ঝাড়্গ্রাম জুলোজিক্যাল পার্ক পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। পরে টাইগার সাফারি গড়ে তোলার জঙ্গলটিও পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনে মন্ত্রীকে ঝাড়গ্রামের ডিএফও উমর ইমাম টাইগার সাফারির গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তারাপর জঙ্গলমহল জুলজিক্যাল পার্কের বিশেষ গাড়িতে করে পুরো পার্ক ঘুরে দেখেন তিনি। এদিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, 'ঝাড়্গ্রামে টাইগার সাফারির জন্য রাজ্যের প্রথম বাজেটেই ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রথমিক পর্যায়ের কাজও শুরু হয়ে যাবে। কিছু দিনের মধ্যেই টেন্ডারও হয়ে যাবে। আপাতত ৬৫ একর জায়গার মধ্যে টাইগার সাফারি করা হবে।এই সাফারি চালু হলে এখানে অর্থনৈতিকের আমুল একটা পরিবর্তন হবে। কয়েকটা টাইগার ছেড়ে দেওয়া মানে পুরো ট্যুরিজমের দিকটা পালটে যাওয়া। আমাদের সরকারের চেষ্টা, পিছিয়ে পড়া সব এলাকাকে গুরুত্ব দেওয়া। যেখানে আগে দু'লক্ষ ট্যুরিস্ট আসতো, এই সাফারি চালু হলে সেটা ডবল হয়ে যাবে৷' বনদফতর জমি দখল প্রসঙ্গে বনমন্ত্রী বলেন, 'যদিও কেউ বেআইনি ভাবে বনদফতরের জমি দখল করে থাকেন। সেক্ষেত্রে অভিযোগ পেলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' এছাড়াও জেলায় হাতির সমস্যা নিয়ে মন্ত্রী জানান, জঙ্গলমহলে হাতির সমস্যা এক দিনের নয়। আর এটা এত তাড়াতাড়ি মেটানো সম্ভব নয়। এটা দীর্ঘ মেয়াদি প্রসেস। আমরা কেন্দ্রের সাথে আলোচনা করছি এটা কিভাবে কি করা যায় সে বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। আগের সরকার জঙ্গলকে গুরুত্ব না দেওয়ায় জঙ্গল কেটে সাফ করে দিয়েছে দুষকৃতিরা। পরে আমাদের সরকার ক্ষমতায় আসার পর ধীরে ধীরে পরিবর্তন হচ্ছে। আগের সরকারের আমলে প্রচুর দুর্নীতি হয়েছে। সেগুলিকে দেখে আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে। আর এখানে কৃষকদের হাতি যে ফসল ক্ষয়ক্ষতি করে তার ক্ষতিপুরন বাড়ানোর দাবি রয়েছে সে গুলিও আস্তে আস্তে দেখা হবে। এদিন বনমন্ত্রীর সাথে ছিলেন রাজ্যের কৃষি প্রতিমন্ত্রী অমিয় কিস্কু, ঝাড়্গ্রামের বিধায়ক লক্ষীকান্ত সাউ, বিনপুরের বিধায়ক চিকিৎসক প্রণত টুডু, ঝাড়্গ্রামের ডিএফও উমর ইমাম সহ প্রশাসনের আধিকারিকেরা। উল্লেখ্য, টাইগার সাফারির জন্য ইতিমধ্যেই ২২৬.৩৭ একর জমি হস্তান্তর করছে বনদফতর। ঝাড়্গ্রাম জুলোজিক্যাল পার্কের পাশেই শিলিগুড়ি মডেলে শুরু হবে এই সাফারি। এমনকি সেখান থেকে উদ্বৃত্ত পাঁচটি রয়াল বেঙ্গল টাইগার, চিতাবাঘ, হগ ডিয়ার,স্পটেড ডিয়ার নিয়ে আসা হবে৷ ইতিমধ্যেই রাজ্য জু অথরিটি বাঘগুলিকে চিহ্নিত করার প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছে। আর সেন্ট্রাল জু অথরিটির কাছেও ছাড় পত্রের জন্য আবেদন করা হয়েছে।