দীঘার পর বকখালি, ফায়ার সেফটি খতিয়ে দেখতে একাধিক হোটেলে প্রশাসনের ভিজিট
N
news13s_staff@gmail.comNews13s Verified
August 25, 2026
3 min read
বকখালি: রাজ্যজুড়ে একের পর এক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে আরও তৎপর প্রশাসন। তারাপীঠ ও কলকাতার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর এবার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র বকখালিতেও হোটেলগুলির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে জোরদার অভিযান চালাল প্রশাসন। দীঘার পর এবার বকখালিতে প্রশাসনের এই আচমকা পরিদর্শন ঘিরে হোটেল মালিকদের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়ায়।
মঙ্গলবার কাকদ্বীপ মহকুমা প্রশাসনের উদ্যোগে দমকল বিভাগ, নামখানা ব্লক প্রশাসন এবং স্থানীয় পুলিশের সমন্বয়ে একটি যৌথ প্রতিনিধি দল বকখালির একাধিক প্রথম সারির আবাসিক হোটেলে আচমকা পরিদর্শনে যায়। আগাম কোনও খবর না দিয়েই একাধিক হোটেলে পৌঁছে যান প্রশাসনের আধিকারিকরা। পর্যটকদের থাকার জায়গাগুলিতে অগ্নিকাণ্ডের মতো বিপর্যয় ঘটলে দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবিলা করার মতো পরিকাঠামো রয়েছে কি না, তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখা হয়।
পরিদর্শনের সময় হোটেলগুলির ফায়ার সেফটি লাইসেন্স ও তার বৈধতা পরীক্ষা করেন আধিকারিকরা। পাশাপাশি হোটেলে থাকা অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রগুলি কার্যকর অবস্থায় রয়েছে কি না, নির্দিষ্ট সময় অন্তর সেগুলির রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছে কি না এবং জরুরি পরিস্থিতিতে সেগুলি ব্যবহারের উপযুক্ত ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হয়। হোটেলের রান্নাঘরের পরিকাঠামো, গ্যাস সংযোগ, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা এবং সার্বিক অগ্নিনিরাপত্তা নিয়েও পরিদর্শন করা হয়।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিদর্শনে একাধিক হোটেলের ফায়ার সেফটি ব্যবস্থাপনায় গলদ নজরে আসে। কোথাও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে গাফিলতি, আবার কোথাও প্রয়োজনীয় নথিপত্রের ক্ষেত্রে অসঙ্গতি ধরা পড়ে বলে অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট হোটেল মালিকদের সতর্ক করার পাশাপাশি স্থানীয় হোটেল অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদেরও কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের নির্দেশ, আগামী এক মাসের মধ্যে প্রতিটি হোটেলকে ফায়ার সেফটি লাইসেন্স নবীকরণ করতে হবে এবং অগ্নিনির্বাপণ সংক্রান্ত সমস্ত ব্যবস্থা সম্পূর্ণ সচল রাখতে হবে। শুধু কাগজে-কলমে নয়, বাস্তবে জরুরি পরিস্থিতিতে যাতে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, সেই পরিকাঠামোও নিশ্চিত করতে হবে।
নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নির্দেশ পালন না করলে সংশ্লিষ্ট হোটেলের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে কাকদ্বীপ মহকুমা প্রশাসন। পর্যটন মরশুমে বকখালিতে ভিড় বাড়ার আগে প্রশাসনের এই নজরদারি আগামী দিনেও চলবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
