কালীঘাট থেকে দক্ষিণেশ্বর ঐতিহ্যের বন্ধনে ফিরছে ট্রাম শহরের হেরিটেজ সংরক্ষণেও বড় পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের

N
news13s_staff@gmail.comNews13s Verified
2 min read
Share
কালীঘাট থেকে দক্ষিণেশ্বর ঐতিহ্যের বন্ধনে ফিরছে ট্রাম শহরের হেরিটেজ সংরক্ষণেও বড় পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের
বর্ণালি সাহা, কলকাতা: কলকাতার দুই মহাতীর্থ কালীঘাট মন্দির এবং দক্ষিণেশ্বর কালী মন্দিরকে এক সুতোয় বাঁধতে উদ্যোগী রাজ্য সরকার। শহরের শতাব্দীপ্রাচীন ট্রাম পরিষেবাকে নতুনভাবে কাজে লাগিয়ে এই দুই ধর্মীয় কেন্দ্রের মধ্যে চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বিশেষ ‘হেরিটেজ ট্রাম’। রাজ্য প্রশাসনের আশা, এই উদ্যোগ একদিকে যেমন কলকাতার ঐতিহ্যকে নতুনভাবে তুলে ধরবে, অন্যদিকে ধর্মীয় পর্যটনেও নতুন গতি আনবে। কলকাতার ট্রাম কেবল একটি গণপরিবহন নয়, শহরের ইতিহাস ও সংস্কৃতির অন্যতম প্রতীক। সেই ঐতিহ্যকে সামনে রেখেই বিশেষভাবে সাজানো ট্রাম চালানোর ভাবনা নেওয়া হয়েছে। ট্রামের ভিতরে থাকবে কলকাতার ইতিহাস, ট্রামের বিবর্তন, শহরের ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্য এবং কালীঘাট ও দক্ষিণেশ্বরের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বের নানা তথ্য। জানা গিয়েছে, ট্রামে পর্যটকদের জন্য অডিও ভিজ্যুয়াল তথ্য পরিবেশনের ব্যবস্থাও রাখার পরিকল্পনা রয়েছে প্রশাসনের। প্রস্তাবিত পরিষেবা চালু হলে দেশ-বিদেশ থেকে আগত পর্যটক ও পুণ্যার্থীরা এক সফরেই কলকাতার দুই প্রধান তীর্থস্থান দর্শনের সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে শহরের ঐতিহ্যবাহী ট্রামে ভ্রমণের অভিজ্ঞতাও তাঁদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠবে। পরিবেশবান্ধব এই গণপরিবহন ব্যবস্থাকে নতুনভাবে জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রেও এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করছেন পর্যটন বিশেষজ্ঞরা। শহরের ঐতিহ্য রক্ষা এবং পর্যটন শিল্পের বিকাশকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই এই পরিকল্পনা রাজ্যের বিজেপি সরকারের। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির মধ্যে সমন্বয়ের কাজ চলছে বলে জানা গিয়েছে। রুট, সময়সূচি, ভাড়া ও পরিষেবা চালুর দিনক্ষণ সম্পর্কে এখনও চূড়ান্ত ঘোষণা না হলেও, পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা কলকাতার পর্যটন মানচিত্রে এক নতুন সংযোজন হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হেরিটেজ ট্রাম পরিষেবা চালু হলে শুধু ধর্মীয় পর্যটনই নয়, কলকাতার ঐতিহাসিক পরিচিতিও আরও উজ্জ্বল হবে। বহু বছর ধরে অস্তিত্বের সংকটে থাকা ট্রাম পরিষেবার প্রতি নতুন প্রজন্মের আগ্রহও বাড়বে, পাশাপাশি শহরের ঐতিহ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও এই উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।