জনরোসের শিকার অভিষেক জুটলো চড়, ঘুষি, কাদা, ডিম

N
news13s_staff@gmail.comNews13s Verified
5 min read
Share
জনরোসের শিকার অভিষেক জুটলো চড়, ঘুষি, কাদা, ডিম
সায়ন চক্রবর্তী, কলকাতা: সোনারপুরে মৃত দলীয় কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে গিয়ে জনরোসের শিকার তৃণমূল কংগ্রেসের তথাকথিত সেকেন্ড ইন কমান্ড তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাকে লক্ষ করে ছোড়া হল ডিম, কাদা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পরে সোনারপুর ভৌমিক পার্ক এলাকায়। প্রসঙ্গত, শনিবার সোনারপুরে মৃত দলীয় কর্মী সঞ্জু কর্মকারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন প্রথমেই কামালগাছি মোড়ে তাকে কালো পতাকা দেখিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়। সেই বিক্ষোভ উপেক্ষা করে মৃতকর্মীর বাড়িতে যেতে প্রধান রাস্তা থেকে নেমে সরু রাস্তা দিয়ে বাইকে চেপে সোনারপুর যান। মৃত কর্মীর বাড়িতে ঢোকার মুখেই সাধারণ মানুষ এলোপাথাড়ি ভাবে তাকে চড়, ঘুষি মারা হয়। পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে ছোড়া হয় ডিম। এছাড়াও যে বাইকে করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এসেছিলেন, সেই বাইকটিতেও ভাংচুর চালায় বিক্ষোভকারীরা। ছিড়ে দেওয়া হয় অভিষেক জামা। ভেঙ্গে যায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চশমা। এর পরেই তার নিরপত্তায় থাকা পুলিশকর্মী তাকে হেলমেট পড়িয়ে কোনো রকমে মৃত কর্মীর বাড়িতে নিয়ে যান। উল্লেখ্য, ৪ঠা মে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর বাংলায় পালা বদলের পরে তৃণমূলের নিচুতলার কর্মী থেকে শীর্ষ নেতৃত্বদের চোখে চোখ রেখে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে চলা দুর্নীতি, অপশাসন ও নারী নির্যাতনের জবাব চাইতে দেখা যাচ্ছে। এবারে তৃণমূল নেতৃত্বদের সেই তালিকা থেকে বাদ পড়লেন না খোদ তৃণমূল সেকেন্ড ইন কামান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘটনার পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করে বলেন, 'ওরা আমায় মারতে চায়। মাথায় হেলমেট ছিল বলে মাথা বেচে গিয়েছে। মেরে ফেলুক। আমি এখান থেকে যাব না। আমাদের মৃত কর্মী সঞ্জুর বৃদ্ধ বাবা-মাকে ছেড়ে কোথাও যাব না। আমি হাইকোর্ট এবং রাজ্যপালের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছি।' এছাড়াও তিনি অভিযোগ করে আরো জানান, আমার কর্মসূচী আগেই পুলিশকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু তা স্বত্বেও ঘটনাস্থলে পুলিশের কেউ নেই। আমি এসপি এবং আইসিকে বিষয়টি জানাতে বলেছি। ঘটনা প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, 'এগুলো কোনো সুস্থ সমাজের কাজ নয়। নির্বাচনের ফলাফল প্রমাণ করে দিয়েছে উদ্ধত্য এবং একদলীয় একাধিপত্তবাদ বেশীদিন চলতে পারেনা। মানুষের ক্ষোভ থাকতে পারে, বিদ্বেষ থাকতে পারে। কিন্তু এই ধরনের ঘটনা যারা ঘটাচ্ছেন, তারা যেনে রাখুন এটা সুস্থ্য স্বাভাবিক সভ্য সমাজে কাম্য নয়। এই ঘটনায় বিজেপি দূর দূর পর্যন্ত যুক্ত নয়। সবাইকে বলবো হিংসা বর্জন করুন, হিংসামুক্ত বাংলা গড়তে মানুষ রায় দিয়েছেন, সুতরাং হিংসামুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধ পরিকর।' পাশাপাশি তিনি ক্ষোভের সাথে জানান, একসময়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে উত্তরবঙ্গে গাড়িতে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়েছিল। তখন বিভিন্ন সভা করার জন্য তৎকালীন বিরোধী দলনেতাকে ১০৪ বার হাইকোর্টে দৌড়াতে হয়েছিল। যে অত্যাচার তৃণমূল কংগ্রেস করেছে আমাদের মহিলাকর্মী সহ বহু কার্যকর্তাদের সঙ্গে, তার পরেও আমরা সংযত ছিলাম বলেই আজও তৃণমূল কংগ্রেস অক্ষত আছে। মায়ের সামনে বসে ভাত খেতে থাকা ছেলেকে গুলি করে খুন! মহিলাদের মাথা নেড়া করে তাদের দিয়ে থুতু চাটানো! বিজেপি করার অপরাধে নদিয়াতে পুরুষ বিজেপি কার্যকর্তাকে প্রকাশ্যে উলঙ্গ করে থুতু ফেলে চাটানো! বিজেপির হয়ে নির্বাচনে প্রতিদন্ধিতা করার জন্য ৫লক্ষ টাকা জরিমানা দিয়ে বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া! কোনও অত্যাচারই বাদ রাখে নি। এত কিছুর পরেও যে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক, সাংসদরা যে অক্ষত আছেন সেটা বিজেপির সংযত থাকার কারনে। আমাদের যায়গায় যদি তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসতো তাহলে এখানে আমি দাঁড়িয়ে থাকতাম না। আমাদের ৫০০ কর্মী খুন হয়ে যেতেন। আর যদি সিপিএম বা কংগ্রেস থাকতো তাহলে আজ যিনি ঘটনার বিবৃতি দিয়েছেন তিনি দাঁড়ানোর মত অবস্থায় থাকতেন না। ঘটনার কড়া নিন্দা জানিয়ে রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, 'কোনো গণতান্ত্রিক সমাজে এই ধরনের ঘটনাকে সমর্থন করা যায় না। আমি নিজে একটি রাজনৈতিক দলের কর্মী হয়ে আমি ঘটনাকে কোনো ভাবেই সমর্থন করছি না। ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি। এই ঘটনার সাথে বিজেপি কোনো ভাবেই যুক্ত নয়। এটা সাধারণ মানুষের সাথে তৃণমূলের লোকেদের আক্রোশ। সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহি:প্রকাশ। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায় কি কারনে এই ঘটনা ঘটল? আমাদের মনে হয় দীর্ঘ ১৫বছর ধরে যেভাবে সাধারণ মানুষের উপরে অত্যাচার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস, সেই ১৫ বছরের কর্মফল তাদের পিছনে তাড়া করছে। এছাড়াও এর মধ্যে যোগ হয়েছে অভিষেক বাবুর বিভিন্ন সময়ে যে ভাষার প্রয়োগ তিনি করেছেন যা মানুষের ভাবাবেগকে নষ্ট করে দেওয়ার জন্য। আমার মনে হয় অভিষেক বাবুর এই ঘটনা থেকে সমস্ত রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন যে মানুষের উপর উৎপীড়ন করলে তার কুফল এই রকমই হয়।'