ডায়মন্ড হারবার পুরবোর্ডে ভাঙন, পদত্যাগ আট তৃণমূল কাউন্সিলারের
N
news13s_staff@gmail.comNews13s Verified
May 26, 2026
3 min read
ডায়মন্ড হারবার: মুখ থুবড়ে পড়ল ডায়মন্ড হারবার মডেল। ফলতায় তৃণমূল কংগ্রেস হারতেই বিদ্রোহী আট তৃণমূল কাউন্সিলরের পদত্যাগ। ভাঙনের পথে ডায়মন্ড হারবার পুরবোর্ড। ফলতায় নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস মুখ থুবড়ে পড়েছে। জামানত জব্দ হয়েছে তৃণমূলের। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ডায়মন্ড হারবার’ মডেলও ধরাশায়ী। রবিবার ফল বেরতেই গেরুয়া আবির উড়েছে ফলতায়। সেই ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ডায়মন্ড হারবার পুরসভার আট তৃণমূল কাউন্সিলর পদত্যাগ করলেন। তৃণমূল আমলে পুরসভার আর্থিক দুর্নীতি ও কাউন্সিলরদের উপর পুলিশের অত্যাচারের প্রতিবাদেই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন তাঁরা। সোমবার ডায়মন্ড হারবার পুরসভার ৮ কাউন্সিলর পদত্যাগপত্র জমা দিলেন পুরসভার চেয়ারম্যানের কাছে। ১৬ ওয়ার্ডের এই পুরসভার ৮ জন তৃণমূল কাউন্সিলর পদত্যাগ করায় পুরোবোর্ড এখন অনিশ্চতায় রয়েছে। পুরসভায় জোর গুঞ্জন ৬ ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ডেরও দুই তৃণমূল কাউন্সিলর অনলাইনে পদত্যাগপত্র জমা দিতে চলেছেন। তাই যদি হয়, তবে ডায়মন্ড হারবারে তৃণমূল পরিচালিত ১৬ ওয়ার্ডের পুরবোর্ড ভাঙতে চলেছে। ২০২২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি ডায়মন্ড হারবার পুরসভায় নির্বাচন হয়েছিল। সেই হিসেবে ২০২৭ এ ডায়মন্ড হারবার পুরসভায় নির্বাচন। এখনও আট মাস বাকি রয়েছে ডায়মন্ড হারবারে পুর নির্বাচনের। তার আগেই পুরবোর্ড ভাঙতে চলায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে শহরে।
পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর অমিত সাহা অভিযোগ করে বলেন, 'তৃণমূল সরকারের আমলে ডায়মন্ড হারবার পুরসভায় ব্যাপক আর্থিক দুর্নীতি হয়। প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্পে বোর্ড মিটিং না করেই সেই প্রকল্প অনুমোদিত হয়ে যায় পুরসভায়। প্রতিবাদ করতে গেলে পুলিশ ও প্রশাসনের অকথ্য অত্যাচারের শিকার হন কয়েকজন কাউন্সিলর।'
৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তমাল হালদার অভিযোগ করে জানান, তাঁকে থানায় নিয়ে গিয়ে উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকরা উলঙ্গ করে মারধর করেন এবং বৈদ্যুতিক শকও দেওয়া হয়। পুরসভার চেয়ারম্যান ও তৃণমূল নেতৃত্ব সব জেনেও নীরব ছিলেন।
এদিন পুরসভার চেয়ারম্যান প্রণব দাসের কাছে যে ৮ জন তৃণমূল কাউন্সিলর পদত্যাগপত্র জমা দিলেন তাঁরা হলেন, ১ নম্বর ওয়ার্ডের দিব্যেন্দু হালদার, ২ নম্বর ওয়ার্ডের মঞ্জু মণ্ডল, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের তমাল হালদার, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মৃদুল হালদার, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের স্বপন দাস, ১১ নম্বরের অলক হালদার, ১৩ নম্বরের অমিত সাহা ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের দেবকী হালদার। সকলেই পুরসভায় আর্থিক দুর্নীতি ও একাধিক কাউন্সিলর এর উপর পুলিশের শারীরিক ও মানসিক অত্যাচারের অভিযোগ তুলেছেন।পদত্যাগী কাউন্সিলররা জানান, নির্বাচিত পুরসভা হলেও সেটি চালাতেন পুলিশ ও প্রশাসন। কাউন্সিলর এমনকী চেয়ারম্যানেরও কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ছিল না। এতদিন তাঁরা মুখ বুজে সব সহ্য করেছেন। রাজ্যে পালাবদল হওয়ায় মুখ খুলতে পেরে এদিন পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন কাউন্সিলাররা। ডায়মন্ড হারবারের উন্নয়নের স্বার্থেই এই পদত্যাগ বলে জানিয়েছেন পদত্যাগী কাউন্সিলররা। তবে তাঁদের বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও জানিয়েছেন। ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপি নেত্রী কৃষ্ণা বেরা বলেন, 'পদত্যাগী তৃণমূল কাউন্সিলদের বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে এখনও তাঁদের কাছে কোনো খবর নেই। বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনো এক্তিয়ারও নেই।' পুরচেয়ারম্যান প্রণব দাস জানিয়েছেন, ৮ জন কাউন্সিলরের পদত্যাগপত্র তিনি গ্রহণ করেছেন। বিষয়টি উচ্চ নেতৃত্বের নজরে আনা হয়েছে।
