সহমরণের স্মৃতিবাহী শ্মশানে এবার আধুনিক উদ্যোগ, বসছে ইলেকট্রিক চুল্লি
N
news13skolkata@gmail.comNews13s Verified
March 12, 2026
2 min read

হাওড়া জেলার উদয়নারায়ণপুর ব্লকের এক প্রাচীন শ্মশানে এবার আধুনিক ব্যবস্থার সূচনা হতে চলেছে। শতাব্দীপ্রাচীন এই দাহস্থলে স্থাপন করা হবে বৈদ্যুতিক চুল্লি। জানা গেছে, হাওড়া গ্রামীণ অঞ্চলে এই প্রথম কোনও শ্মশানে এমন ব্যবস্থা চালু হতে চলেছে।
উদয়নারায়ণপুর থেকে হাওড়াগামী সড়কের পাশে জয়নার স্টপেজের কাছে দামোদর নদের তীরে অবস্থিত এই শ্মশানটি বহু বছরের পুরোনো। চারপাশে গাছপালায় ঘেরা জায়গাটি স্থানীয়দের কাছে ‘আগুনখাকি বন’ নামে পরিচিত। জনশ্রুতি রয়েছে, বহু বছর আগে সতীদাহ প্রথার সময় এখানে এক বিধবা মহিলাকে স্বামীর চিতায় সহমরণে বাধ্য করা হয়েছিল। সেই ইতিহাসের কারণেই জায়গাটির নামকরণ হয়েছে এভাবে।
বর্তমানে এখানেই তৈরি করা হচ্ছে আধুনিক বৈদ্যুতিক শ্মশানচুল্লি। এতদিন অন্যান্য গ্রামীণ শ্মশানের মতো এখানেও কাঠের আগুনে দাহকর্ম সম্পন্ন হত। এর ফলে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি বর্ষাকালে শুকনো কাঠের জোগানও একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াত। সেই সমস্যার সমাধান হিসেবেই নেওয়া হয়েছে বৈদ্যুতিক চুল্লি স্থাপনের উদ্যোগ।
কিছুদিন আগেই এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। পরিবেশবান্ধব ডাবল ফার্নেস প্রযুক্তিতে তৈরি এই বৈদ্যুতিক চুল্লি নির্মাণে প্রায় তিন কোটি টাকা খরচ হবে বলে জানা গেছে। আগামী আট মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
Samir Panja জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের জন্য প্রায় এক বিঘা জমির প্রয়োজন ছিল। সরকারি জমি না থাকায় এলাকার দুই বাসিন্দা জমি দেওয়ার উদ্যোগ নেন। চুল্লিটি চালু হলে উদয়নারায়ণপুরের পাশাপাশি আমতা এবং পাশের Khanakul ও Jangipara এলাকার মানুষও এর সুবিধা পাবেন।
অন্যদিকে Kolkata Metropolitan Development Authority–র প্রধান পরামর্শদাতা Supriya Maiti জানিয়েছেন, এখানে ডাবল ফার্নেস থাকলেও দুটি একসঙ্গে ব্যবহার করা হবে না। প্রয়োজন অনুযায়ী একটি ফার্নেস চালু রাখা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা বুদ্ধদেব মণ্ডলের কথায়, দামোদর নদের তীরের এই শ্মশান বহু পুরোনো এবং ইতিহাসের সাক্ষী। সহমরণের সেই করুণ স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই জায়গাতেই এবার আধুনিক পরিবেশবান্ধব দাহকেন্দ্র গড়ে উঠতে চলেছে।
